ছবিঃ সিএনআই
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরে বছরের পর বছর ধরে জালিয়াতি করে বাল্য বিয়ে সম্পাদন করে আসলেও কাজীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জন্ম সনদ জালিয়াতি করে একের পর এক বাল্য বিয়ে সম্পাদন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অর্ধ-শতবার লিখিত অভিযোগ দিয়েও লাগাম টানা সম্ভব হচ্ছে না কথিত কাজী মো: বেলাল হোসাইনের। ছয় মাস না পেরোতেই সম্প্রতি জালিয়াতি করে একটি বাল্য বিয়ের রেজিস্ট্রির বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
বিয়ের নিকাহনামা থেকে জানা যায়, চলতি মাসের ৪ তারিখে উপজেলার ১নং খট্টেশ^র রাণীনগর ইউনিয়নের পশ্চিম বালুভরা গ্রামের কামরুজ্জামান শাহের মেয়ে মোছা: তৈয়বা আক্তারের বিয়ের রেজিস্ট্রি কাজ সম্পন্ন করেন ২নং কাশিমপুর ইউনিয়নের কাজী মো: বেলাল হোসাইন। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রদান করা মেয়ের জন্ম নিবন্ধন সনদ (নং ২০১৩৬৪৩৮৫৮৪১০২০৩১) থেকে জানা যায় মেয়ের প্রকৃত জন্ম সাল হচ্ছে ১৮-০৯-২০১৩ আর বিয়ের নিকাহনামায় মেয়ের বয়স উল্লেখ্য করা হয়েছে ১৮বছর। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার উত্তরপাড়া শুরমহনী গ্রামের রেজাউল তালুকদারের ছেলে বর রাকিব তালুকদারের জাতীয় পরিচয়পত্রে (পরিচয়পত্র নং ৪৬৭৯৫৭২৫৩৯) জন্ম সাল লিখা আছে ১৪-০৪-২০০৭ইং আর কাজী বেলাল হোসাইন নিকাহনামায় ছেলের জন্ম সাল লিখেছেন ১৪-০৪-২০০৪ইং। এছাড়া প্রথমদিকে নিকাহনামায় দেনমোহর লিখা হয় ৫৫হাজার টাকা পরে আবার ৫৫হাজার টাকাকে ২লাখ ৫৫হাজার টাকা বানানো হয়েছে। এমন জালিয়াতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে উভয় পক্ষই।
মেয়ের বাবা মো: কামরুজ্জামান শাহ জানান একজনের পাল্লায় পড়ে কাজী বেলালের মাধ্যমে বিয়ে রেজিস্ট্রি করে তিনি চরম ভাবে প্রতারিত হয়েছেন। বিশেষ করে প্রথমদিকে নিকাহনামায় দেনমোহর ৫৫হাজার টাকা লিখা হলেও পরে সেটি কিভাবে ২লাখ ৫৫হাজার টাকা হলো সেই বিষয়ে তিনি খুবই চিন্তিত। আর যেন কেউ কাজী বেলালের প্রতারণার শিকার না হয়।
এই বিষয়ে বক্তব্য নিতে কাজী মো: বেলাল হোসাইনের মুঠোফোনে একাধিকার ফোন দিলে ফোন রিসিভ না হওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলার চকমনু গ্রামের মৃত-আব্দুস সামাদের ছেলে বিএনপি নেতা সিরাজ-এ আলম (সিরাজ) জানান ২০১২ সাল থেকে কাজী মো: বেলাল হোসাইন জালিয়াতি করে বিবাহ সংক্রান্ত অবৈধ ভাবে বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রি করে আসছে। তার অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তিনি নিজে বাদী হয়ে প্রায় অর্ধ-শতাধিক লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর কিন্তু কাজী বেলালের অবৈধ টাকার কাছে সবাই হার মেনে যায়। এখন পর্যন্ত কোন কর্তৃপক্ষই কাজী বেলাল হোসাইনের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কিন্তু প্রতিনিয়তই কেউ না কেউ কাজী বেলালের প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং ভাঙ্গছে অসংখ্য সংসার। জানি না আর কতদিন কাজী বেলালের এমন কর্মকান্ড চলবে। তবে দ্রুতই কাজী বেলালের অবৈধ কর্মকান্ডের দৌরাত্ম বন্ধ করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান হাসান জানান ইতোমধ্যেই কাজী মো: বেলাল হোসাইনের অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পাওয়া লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। এছাড়া এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী মৌজার এ...
পাবনা প্রতিনিধি : অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কেবল তদন্ত বা আসামি ...
পাবনা প্রতিনিধিঃ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে পাবনার চাটমোহর থানা ...
পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনায় স্বামীর পরকীয়া প্রেমের ঘটন...
ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার...

মন্তব্য (০)