রংপুর ব্যুরো : রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)-এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।সৌজন্য সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে। বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্যাম্পাসের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষই বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র। এখানে শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সবসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে।তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, তাই এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি।
উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী তার বক্তব্যে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিবেশ অপরিহার্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব নয়। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা যেন নির্ভয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় মনোনিবেশ করতে পারে।” তিনি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতার আশ্বাসকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
বৈঠকে আরও উল্লেখ করা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হবে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
এর আগে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আলোচনায় অংশ নেন। এ সময় বেরোবির শিক্ষক ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃতি এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ধরনের সমন্বয়মূলক উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিবেশ আরও উন্নত হবে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির মাধ্যমে শিক্ষা ও গবেষণার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হবে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মন্তব্য (০)