ছবিঃ সিএনআই
গাজীপুর প্রতিনিধি: পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব কার? প্রশ্নটির উত্তর সাধারণত আসে-‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের’। কিন্তু সেই ধারণাটিই যেন বদলে দিতে চাইলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম কামরুল ইসলাম। দায়িত্বশীল কর্মকর্তার চেয়ার ছেড়ে তিনি দাঁড়ালেন পরিচ্ছন্নতার কর্মীদের পাশে। নিজ হাতেই অংশ নিলেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কালীগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে আয়োজিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে দেখা যায় এমন দৃশ্য।
শুধু ইউএনও নন, অভিযানে মাঠে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল-আমিন হালদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজওয়ানা রশীদ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার দত্ত এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার। তাদের সঙ্গে অংশ নেন উপজেলা প্রশাসন, পৌরসভা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।
উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর, কালীগঞ্জ বাজার বাসস্ট্যান্ড ও মূলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় চলে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। পাশাপাশি মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তবে এ অভিযানের আরেকটি দিক ছিল জনসচেতনতার বার্তা। কারণ মশা নিধনে ওষুধ ছিটানো বা আবর্জনা পরিষ্কার করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অফিসের আশপাশে পানি জমে থাকলে সেখান থেকেই তৈরি হতে পারে মশার প্রজননস্থল। তাই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাসকে নিয়মিত চর্চায় পরিণত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অভিযানে বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির মাস্টার বলেন, ‘আমরা যদি নিজের জায়গাটি নিজের দায়িত্বে পরিষ্কার রাখি, তাহলে পুরো এলাকার পরিবেশ পরিবর্তন করা সম্ভব। প্রশাসন অভিযান চালাবে, কিন্তু জনগণ সচেতন না হলে স্থায়ী ফল পাওয়া কঠিন। তাই সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হবে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রেজওয়ানা রশীদ বলেন, ‘মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হলো মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা। কোথাও পানি জমে থাকলে সেটি দ্রুত অপসারণ করতে হবে। একই সঙ্গে বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা একসঙ্গে চললেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া সম্ভব।’
ইউএনও এ. টি. এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা শুধু একটি দিনের কর্মসূচি নয়। এটি প্রতিদিনের অভ্যাসের বিষয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে নাগরিকরা যদি নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখেন এবং মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না দেন, তাহলে এ উদ্যোগ আরও কার্যকর হবে।’
কালীগঞ্জ পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনের এ ধরনের কার্যক্রমের পাশাপাশি নাগরিকদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, পানি জমতে না দেওয়া এবং বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ নিয়মিত পরিষ্কার রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অভিযানের দৃশ্যের মধ্য দিয়ে যেন একটি কথাই সামনে এলোপরিচ্ছন্ন কালীগঞ্জ গড়ার দায়িত্ব শুধু পৌরসভা বা প্রশাসনের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে প্রতিটি নাগরিকের দৈনন্দিন অভ্যাসও।
নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত...
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহের মোবা...
দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর সীমান্তে বিজিবি'র ২৯ ব...
নড়াইল প্রতিনিধিঃ নড়াইল সদরের শাহাবাদ ইউনিয়নে দলজিপুর এলাকা থ...
বাকৃবি প্রতিনিধি: বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস উপলক্ষে পোষা ও অবহেলিত ...

মন্তব্য (০)