রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর নগরীতে প্রকাশ্যে যুবদল নেতা রাকিব হাসানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাব।মাদক ব্যবসা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় প্রধান দুই আসামি মাদক কারবারি মমিন এবং তার স্ত্রী সুইটি বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের সাহাপাড়া গ্রামে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।পরে র্যাব-১৩ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার মহিদুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
সংবাদ সম্মেলনে মহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে-নিহত রাকিব হাসানের সঙ্গে আসামি মমিনের পূর্ব থেকে বিরোধ ছিল, যার মূল কারণ ছিল এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব। ঘটনার আগের দিন একটি তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, “ঘটনার আগের দিন মমিনের স্ত্রী সুইটি বেগম তার মেয়েকে নিয়ে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাকিবের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরবর্তীতে তিনি মোবাইল ফোনে বিষয়টি তার স্বামীকে জানালে মমিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে।”
রংপুর র্যাব কর্মকর্তা আরও জানান, পরদিন সুযোগ বুঝে রাকিবকে দেখতে পেয়ে মমিন বাড়ি থেকে ছুরি এনে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।গুরুতর জখম হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রাকিবের। হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং তা বাস্তবায়নে সুইটি বেগমের প্ররোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে রংপুর নগরীর দাসপাড়া মোড়ে প্রকাশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিবালোকে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত রাকিব হাসান (২৩) নগরীর কামাল কাছনা এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি মহানগর যুবদলের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবং বর্তমান প্রস্তাবিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন রাতেই নিহতের বাবা আব্দুস সামাদ বাদী হয়ে মাদক কারবারি মমিন ও তার স্ত্রী সুইটি বেগমসহ সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছে।এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত ক্রমেই সহিংস রূপ নিচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। তারা এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
রংপুরের এই আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও স্থানীয়দের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত বিচার ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য (০)