ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় এক বিধবা ভিক্ষুককে মারধরের প্রতিবাদ করায় এক পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একজনকে এলাকাবাসী ধরে পুলিশে সোপর্দ করলেও তাকে তাৎক্ষণিক ছেড়ে দেওয়ায় পুলিশের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, গত ১ মার্চ উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের গঙ্গাশ্রম গ্রামের বিধবা ভিক্ষুক সখিনা খাতুন (৫০)কে মারধর করে প্রতিবেশী কিশোর গ্যাং সদস্য শান্ত। বিষয়টি নিয়ে সখিনার প্রতিবেশী মোতাকাব্বির প্রতিবাদ করেন। এ নিয়ে শান্ত মোতাকাব্বিরের বাড়ি ঘরে হামলা চালায়। পরে ২ মার্চ মোতাকাব্বির বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৩ মার্চ সকালে কিশোর গ্যাং সদস্য আলিমুল (২২), সোহাগ (৪০), শান্ত (২০), ফয়সাল মিয়া (১৮), রতন (২৬), স্বপন (৩৫) ও নবী হোসেন (২৫) সহ আরও কয়েকজন মিলে মোতাকাব্বিরের বাড়িতে ২য় দফা হামলা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে যান। এ সময় সোহাগ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশের সামনেই হুমকি দিতে থাকে। পরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রাস্তায় উঠেই রহস্যজনকভাবে সোহাগকে ছেড়ে দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ৩য় দফায় মোতাকাব্বির ও তার ভাইদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় এসআই রেজাউল করিমকে ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
সোহাগকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এসআই রেজাউল করিম বলেন, সোহাগকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। তার নামে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। ফোন রিসিভ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় আমি থানায় চলে এসেছিলাম। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হবে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মোতাকাব্বিরের ঘরের সর্বত্র কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ফ্রিজ, আলমারি, স্যুটকেসসহ ঘরের প্রায় সব আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। টিনের ঘরটি কুপিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে। মোতাকাব্বিরসহ পাশের বাড়ির তিনটি পানির পাম্প ভেঙে নিয়ে গেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। এছাড়া মোতাকাব্বিরের বড় ভাই সিদ্দিক মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাকের ঘরেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীরা ইফতারের ঠিক আগ মুহুর্তে এতটাই বর্বরভাবে হামলা চালায় যে আক্রান্ত পরিবারগুলো সেদিন ইফতার পর্যন্ত করতে পারেনি। রান্না করা ভাতের হাঁড়ি ভেঙে ফেলা হয়, নষ্ট করা হয় ইফতার সামগ্রী। চালের ড্রাম কুপিয়ে চাল মাটিতে ফেলে তছনছ করে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫–২০ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করেছেন।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার জন্য তাদের বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে গৌরিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মন্তব্য (০)