• সমগ্র বাংলা

উলিপুরে আলিম পরিক্ষা দিতে পারেনি লিমা, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি

  • সমগ্র বাংলা

ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ‎কুড়িগ্রামের উলিপুরে আলিম পরিক্ষা দেয়া হল না লিমা আক্তার (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীর। স্বভাবিক জীবনে ফেরার আকুতি। দেখতে দেখতে জীবনের ১৯টি বছর কেটে গেলেও ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি কখন যে মরণ অসুখ বাসা বেঁধেছে তার কিডনিতে। যখন টের পেলেন তখন তার দুটো কিডনিই বিকল হয়ে গেছে।

‎‎উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মধ্য সাদুল্যা ফকিরপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে লিমা। লিমার দু'চোখে মুঠো মুঠো স্বপ্নের বদলে শুধুই মৃত্যুর বিভীষিকা। চোখ বুঝে অবসন্ন শরীর নিয়ে জীবনকে মহাকালের কাছে সোপর্দ করার দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন লিমা। দিনমজুর খেটে খাওয়া বাবার সামর্থ্য নেই অর্থ ব্যয় করে তাকে বাঁচিয়ে রাখার। তারপরও তার পরিবারের চেষ্টার কমতি নেই। নিরূপায় হয়ে লিমাকে বাঁচাতে সমাজের সবার সহযোগিতা চেয়েছেন তার বাবা আব্দুল লতিফ। 

‎‎বাবা আব্দুল লতিফ দিনমজুর মা মাছুমা বেগম গৃহিণী। দুই বোনের মধ্যে লিমা বড়। লিমা সাদুল্যা সরকারপাড়া মোস্তফাবিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০২৩ সালে দাখিল পরীক্ষায় 'বি' গ্রেডে পাশ করে ওই মাদ্রাসায় আলিম ক্লাসে ভর্তি হন। সে এবারে আলিম পরিক্ষার্থী ছিলেন। নিয়তির পরিহাস চলতি বছরের মার্চ মাসে অসুস্থ হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি বিশেষজ্ঞকে দেখালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে লিমার দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে গেছে জানান চিকিৎসক। টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেয়ে দিন দিন লিমার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। বর্তমানে লিমা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। 

‎‎শিক্ষার্থী লিমা বলেন, আমি বাঁচতে চাই। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চাই। আমি লেখাপড়া করতে চাই। আমাকে বাঁচাতে দেশ ও দেশের বাহিরের সামর্থ্যবান ব্যাক্তিদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন। এলাকাবাসী গোলাপ উদ্দিন, আব্দুল মোতালেব, মমিনুল ইসলাম ও জায়দা বেগম সহ আরও অনেকে বলেন, লিমা অনেক অসুস্থ হয়েছে। লিমাকে বাঁচতে অনেক টাকার প্রয়োজন। লিমার বাবা দিনমজুর হওয়ার এত টাকা তার নেই। সবাইকে লিমার পাশে দাঁড়াতে এলাকাবাসী অনুরোধ করেন। 

‎‎লিমার বাবা আব্দুল লতিফ বলেন, আমার সহায় সম্বল বলে তেমন কিছু নেই। যেটুকু ছিলো তা দিয়ে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। দু'টো কিডনি প্রতিস্থাপন করতে ১২ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এত টাকা আমি কোথায় পাবো। চিকিৎসক বলেছেন কিডনি প্রতিস্থাপন করলে লিমাকে বাঁচানো সম্ভব। দেশবাসী ও প্রবাসীদের নিকট আমার আবেদন আমার মেয়ে লিমাকে বাঁচাতে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিবেন।

‎তবকপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বজলুর রশিদ বলেন, শিক্ষার্থী লিমা আক্তারের দু'টো কিডনি বিকল হয়ে গেছে। তাকে বাঁচাতে অনেক টাকার প্রয়োজন। লিমার চিকিৎসার খরচ বহন করা বাবা দিনমজুর আব্দুল লতিফের পক্ষে সম্ভব নয়।

‎‎সাদুল্যা সরকারপাড়া মোস্তফাবিয়া দ্বিমুখী আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মোস্তার আহমেদ জানান, লিমা আক্তার এবছর আলিম পরিক্ষার্থী ছিল। তার দু'টো কিডনি বিকল হওয়ায় পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করতে পারেনি।

মন্তব্য (০)





image

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইউপি সদস্যের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

১

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক সেবনের প্রতি...

image

নওগাঁয় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে এক শ্রমিক নিহত, আহত-৪

২

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁয় চালকলের বয়লার বিস্ফোরণে আব্দুল খালে...

image

বগুড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে ফেরা হলোনা জেলে সাজ্জাদের: জমি থেকে ...

৩

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ায় সাজ্জাদ আলী (৪৫) নামের এক জেলের লাশ ...

image

বগুড়ায় বাংলা কিউআর বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

৪

বগুড়া প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়ার নির্বাহী পরিচালক মো...

image

পরকীয়া সন্দেহে কিশোর ওমরকে হাত-পা বেঁধে হত্যা, ৫ বছর পর প...

৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি: কিশোর ওমর আলী হত্যার দীর্ঘ ৫ বছর পর ঘটনার...

  • company_logo