ছবিঃ সিএনআই
দিনাজপুর প্রতিনিধি : যন্ত্রণায় ফটফট করে কাতরাচ্ছিল ২২ দিন বয়সি এক নবজাতক শিশু। আগুনে ঝলসানোসহ তার শরির থেকে ডান হাত কব্জি পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন৷ পাশাপাশি আগুনে অঙ্গার তার ডান পা। বাচ্চাটার করুন ওই দশা দাগ কাটে প্রতিবেশীদের। শিশুটির প্রতি দরদি হয়ে পুলিশের সেবা কেন্দ্র ত্রিপল নাইন ( 999) কোল দেন তারা। এতে টনক নড়ে স্হানীয় উপজেলা প্রশাসনসহ থানা পুলিশের। শিশুটির পাশে দাঁড়াতে ছুটোছুটি শুরু হয় কর্মকর্তাদের।
ওই ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলার দক্ষিণ বাসুদেবপুর গ্রামে।
হাকিমপুর থানার ইনচার্জ জাকির হোসেন জানান, ২২দিন বয়সি ওই শিশুর বাবা জনৈক সাগর আগে ডিম বিক্রি করে জীবিকা চালাতো। পরে সে আসক্ত হয়ে পড়ে হেরোইনসহ বিভিন্ন নেশায়। পেশা হারিয়ে বেকারত্বে কাটছে তার দিন। স্ত্রী খাদিজা বেগমের অন্যের বাসা বাড়ীতে ঝি গিরি করে অর্জিত রোজগারে পেটে অন্ন জুটতো দম্পত্তির। হাত বিচ্ছিন্ন এবং আগুনে শরিরের অংশ ঝলসে যাবার কারন জানাতে পারেনি তার স্ত্রী খাদিজা বেগম। ২৬ তারিখের ঘটনা গতকাল সোমবার জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ভাবে উপজেলা স্বাস্হ্য কেন্দ্রে নিয়েছিলেন তারা। জটিলতার কারনে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন চিকিৎসক। চিকিৎসার ব্যবস্হা নিয়েছেন তিনি। দম্পত্তির ঘরে ৭ বছর বয়সি শারিরিক মানষিক প্রতিবন্ধী আরকটি মেয়ে শিশু রয়েছে।
হাকিমপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা জানান, শিশুটির করুন পরিনতির খবর জানতে পেরে উপজেলা প্রশাসক এবং সমাজ সেবার আর্থিক সহায়তাসহ থানা পুলিশ যৌথভাবে চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নিতে ছুটে গেছেন তারা। মাদকাসক্ত পরিবার।
শিশুটির শরিরে কিভাবে আগুনে দগ্ধ হলো, ডান হাত বিচ্ছিন্নের কারন কি তারা জানতে পেরেছেন ? আগুনের এমন কোন আলামত কি ওই পরিবারের বাড়ীতে ছিল কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, আগে শিশুটির চিকিৎসা হোক, বাঁচানো যাক। পরে তদন্ত সাপেক্ষে সব জানা যাবে। আপাততঃ শিশুটির চিকিৎসা জরুরী। এজন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।
স্হানীয়দের অভিযোগ অর্থ সহায়তা ভিক্ষাবৃত্তিতে করুনার আবদারের সুবিধার্থে শিশুকে অঙ্গহানি এবং আগুনে ঝলসানের কাজটি করেছে অভিভাবকেরা।
জানতে চাওয়া হলে স্হানীয় একজন গন মাধ্যমকর্মী এই প্রতিনিধিকে জানান, সাগর স্হানীয় বাসিন্দা নন, তার স্ত্রী খাদিজা নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। দক্ষিন বাসুদেবপুরে তারা সরকারি জায়গার উপর ভাড়াটে বাড়ীতে বসবাস করে। অভাবের তাড়না নেশার টাকার জন্য শিশু সন্তানটিকে তারা জনৈক ব্যক্তির কাছে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিল। শিশুটিকে দেখভাল চিকিৎসা করাতে ওই ব্যক্তিই তাদের টাকার যোগান দিত। গতকাল শিশুটিকে নিতে এসে অঙ্গহানি আর আগুনে দগ্ধের দৃশ্যে হতবাগ হয়ে যায় সে। শিশুটিকে নিতে নিতে অনিহা প্রকাশ করে টাকা ফেরত চাইলে বাকবিতন্ডার জেরে প্রতিবেশীরা শিশুটির আত্বনাদের কারন জানতে পেরে ত্রিপল নাইনে (999) কোল দেয়। তৎপর হয়ে প্রশাসন।
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক যুবতীকে (২৭) ধর্ষণে...
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সাদিপুর ইউনিয়...
লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্র...
কক্সবাজার প্রতিনিধি : টেকনাফে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে ব...
পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার ওয়াক্ফ এস্টেটের আওত...

মন্তব্য (০)