• সমগ্র বাংলা

রংপুর-৪-এ ফলাফল নিয়ে তীব্র বিতর্ক, পুনর্গণনার আবেদন

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরো : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ আসনের ফলাফল ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী, এনসিপির আখতার হোসেন-কে বিজয়ী করার অভিযোগ তুলেছেন বিএনপি প্রার্থী এমদাদুল হক ভরসা। তিনি ফলাফল বাতিল করে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলো কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভরসা রিটার্নিং কর্মকর্তার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। 

অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মোঃ শাহান। একই সঙ্গে ভোট পুনর্গণনার আবেদন জানিয়েছেন ওই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায়ও।

অভিযোগে এমদাদুল হক ভরসা বলেন, “ভোটের দিন পরিকল্পিতভাবে একটি মব সৃষ্টি করা হয়। সেই মবের প্রভাবে কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত ফলাফল একতরফাভাবে প্রভাবিত করা হয়।” তিনি দাবি করেন, নির্বাচনের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আখতার হোসেনের সমর্থকেরা বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেন এবং প্রশাসনের একটি অংশ নীরব ভূমিকা পালন করে।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হিসেবে তিনি বলেন, তার নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষে প্রদত্ত প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ভোট অযৌক্তিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। “আমাদের এজেন্টদের আপত্তি সত্ত্বেও ধানের শীষে সিল মারা বহু ব্যালট অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে,”বলেন ভরসা।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণনার সময় পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা ছিল না এবং তার প্রতিনিধিদের অনেক ক্ষেত্রে গণনা প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখা হয়।

যেখানে ভোটের ব্যবধান কম, সেখানে এত বিপুল সংখ্যক ভোট বাতিল হওয়া স্বাভাবিক নয়। আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত ও পুনর্গণনা চাই,”জোর দিয়ে বলেন বিএনপি প্রার্থী।

এদিকে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী উজ্জ্বল চন্দ্র রায়ও ভোট পুনর্গণনার দাবিতে আবেদন জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, “ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ থাকলেও গণনার পর্যায়ে নানা অসংগতি দেখা গেছে। প্রকৃত ফলাফল জানতে হলে পুনর্গণনা ছাড়া বিকল্প নেই।”

অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে এনসিপি প্রার্থী আখতার হোসেনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ এবং ফলাফল জনগণের রায়ের প্রতিফলন। তাদের ভাষ্য, পরাজয় মেনে নিতে না পেরে বিএনপি প্রার্থী ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।

নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

রংপুর-৪ আসনটি বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে একাধিক দলের সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র। ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে বাতিল ভোটের সংখ্যা এবং গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী অভিযোগ নতুন কিছু নয়, তবে বিপুলসংখ্যক ভোট বাতিলের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এতে করে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

এখন দেখার বিষয়, নির্বাচন কমিশন অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুনর্গণনার সিদ্ধান্ত নেয় কি না। পুনর্গণনা হলে রংপুর-৪ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলে পরিবর্তন আসে কিনা, সেটিই হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনীতির প্রধান আলোচ্য।

মন্তব্য (০)





  • company_logo