• সমগ্র বাংলা

গাজীপুর-৫ আসনে ভিন্ন সুরের নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সৌহার্দ্য, উন্নয়নের অঙ্গীকারে দুই প্রার্থী

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসনে জমজমাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর দেখা গেল ভিন্ন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতি-প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি সম্মান ও এলাকার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজের প্রত্যাশা।
এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি পেয়েছেন ১,৩২,৮৯১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. খায়রুল হাসান পেয়েছেন ৭৬,৭৬১ ভোট। ফলে ৫৬,১৩০ ভোটের ব্যবধানে মিলন বিজয় নিশ্চিত করেন।

পরাজয়ে কৃতজ্ঞতা, বিজয়ে দায়িত্বের অঙ্গীকার
শুক্রবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খায়রুল হাসান গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ, পূবাইল, বাড়িয়া) এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি লেখেন, মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক, জনতার অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে বিজয়ী প্রার্থী এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলনকে অভিনন্দন জানিয়ে তার পরিকল্পিত উন্নয়ন ভাবনাগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বিজয়ের পর এ. কে. এম. ফজলুল হক মিলন তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, এই জয় কেবল তার ব্যক্তিগত নয়-এটি শ্রমজীবী মানুষ, কৃষক, ছাত্র-যুবক, মা-বোন ও প্রবীণদের সম্মিলিত বিজয়। জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তার প্রধান দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

দলীয় নির্দেশনা অনুসরণ করে তিনি কোনো বিজয় মিছিল না করে বাদ জুমা আসনের বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিল আয়োজন করেন।

 

এদিকে, এই আসনে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার পর সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম. কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের অঙ্গীকার রক্ষা করতে পেরেছি। তবে এই সফল আয়োজনের জন্য কিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, আনসার সদস্যবৃন্দ, ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসন, নির্বাচন অফিসসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর-সবার প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিশেষভাবে তিনি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দিকনির্দেশনার জন্য ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদেরও ধন্যবাদ জনান। সর্বোপরি, এটি মানুষের বিজয়-ন্যায় ও গণতন্ত্রের বিজয়। তাই বিজয়ী ও বিজিত সকল প্রার্থীকে অভিনন্দন জানান।

গাজীপুর-৫ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩,৫৪,৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১,৭৯,০৯৩ জন, নারী ১,৭৫,৫৪৮ জন এবং হিজড়া ভোটার ছিলেন ২ জন।
মোট ২,২৭,৪৪৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এর মধ্যে ৪,২৭৬টি ভোট বাতিল হয়। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ২,২৩,১৬৭।

১২৪টি কেন্দ্রে ৬৭৮টি কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ আসনে মোট সাতজন প্রার্থী সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

গাজীপুর-৫ সংসদীয় আসনটি গঠিত হয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলার একটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন, গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন এবং গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে।

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর বক্তব্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব ও উন্নয়নমুখী প্রত্যাশা রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের আশা, নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা পেরিয়ে এখন উন্নয়ন ও সুশাসনের পথে এগোবে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo