• সমগ্র বাংলা

নারী ক্ষমতায়নের অনুপ্রেরণামূলক গল্প কালীগঞ্জের সুমী আক্তার এখন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এক অসাধারণ নাম-সুমী আক্তার। নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও পারিবারিক সহায়তার শক্তিতে তিনি আজ ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে চূড়ান্তভাবে গেজেটেড হয়ে হয়েছেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। ৪৪তম বিসিএসে কালীগঞ্জ উপজেলা থেকে তিনিই একমাত্র প্রশাসন ক্যাডার-যা এ অঞ্চলের নারীদের জন্য এক অনন্য গর্বের অধ্যায়।

শিক্ষার প্রতিটি ধাপে উজ্জ্বল সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে এগিয়েছেন সুমী আক্তার। ২০১১ সালে এসএসসিতে কালীগঞ্জের সেন্ট মেরিজ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫, ২০১৩ সালে এইচএসসিতে রাজধানী ঢাকার উত্তরার হলি চাইল্ড কলেজ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে প্রাণিবিদ্যা বিভাগে সিজিপিএ ৩.৯৩/৪.০০ ও মাস্টার্সে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৪.০০/৪.০০ লাভ করেন।

অনার্স ও মাস্টার্সে অসামান্য কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জন করেন “ডিনস অ্যাওয়ার্ড”।

সুমী আক্তার ৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে মেধাক্রম ৩য় হয়ে নিয়োগ পান শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে। এরপর নিরলস প্রচেষ্টায় ৪৪তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে মেধাক্রম ৪৩ অর্জন করে চূড়ান্তভাবে গেজেটেড হন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে।

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর আব্দুস সাত্তার মোল্লা ও জরিনা বেগম দম্পতির সন্তান সুমী আক্তার ব্যক্তিজীবনে এক কন্যাসন্তানের মা। তিনি প্রমাণ করেছেন-মাতৃত্ব কোনো বাধা নয়, বরং শক্তির উৎস। তাঁর জন্মগ্রাম বক্তারপুর ও স্বামীর বাড়ি গোলাবাড়ি। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ ছাত্তার মোল্লা বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও কালীগঞ্জ পৌর এলাকার গোলাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা।

সাফল্যের অনুভূতিতে সুমী আক্তার নিজের অর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে অশেষ শুকরিয়া। আলহামদুলিল্লাহ! নিজের নামের পাশে ‘সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট’ লেখার স্বপ্ন আজ পূর্ণ হলো। ৪৪তম বিসিএসের প্রিলি, লিখিত ও ভাইবা-সবই আমার বিয়ের পরের ঘটনা। তাই এই অর্জনের সবচেয়ে বড় অংশীদার আমার হাসবেন্ড। আমি যখন মেয়ের জন্মের পর হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলাম, তখনও সে আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছে। বাজার আনতে ভুলে গেলেও আমার পড়ার কাজে দরকারি কিছু আনতে ভুলতো না-এই মানুষটার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।”

তিনি আরও বলেন, “আমার মা-বাবা, শাশুড়ি মা, ছোট বোন, আমার মেয়ে-এবং যারা আমাকে সহযোগিতা করেছেন-সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। তাদের ভালোবাসাই আমার পথ সহজ করেছে।”

সুমী আক্তারের গল্প প্রমাণ করে-নারী, মা, স্ত্রী-এসব পরিচয় কোনো সীমাবদ্ধতা নয়; বরং এগুলোই হতে পারে সাফল্যের শক্ত ভিত। প্রতিকূলতার মাঝেও যদি স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরা যায়, তবে সেই স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়-ঠিক যেমন কালীগঞ্জের এক মেয়ের নামের পাশে আজ যুক্ত হয়েছে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের পরিচয়।

মন্তব্য (০)





image

ভারত থেকে ট্রাভেল পারমিটে বেনাপোল দিয়ে দেশে ফিরলেন দুই নারী

১

বেনাপোল প্রতিনিধি : ভারতের সেফহোমে থাকা দুই বাংলাদেশি নারীকে...

image

গোপালপুর সরকারি কলেজে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা

২

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : নজরুল বর্ষ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইলে...

image

পাবনায় বটগাছের নিচে বস্তায় মিলল ১৫ রাউন্ড গুলি, দেশীয় অস্ত্র

৩

পাবনা প্রতিনিধি : ‎পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ...

image

গাইবান্ধায় শ্রমিক দলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

৪

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : দেশবিরোধী দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং আওয়...

image

শ্রীপুরে পোশাকশ্রমিকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পলাতক

৫

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্র...

  • company_logo