নিউজ ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল আছে বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়াও বিজয়ের মাসে বিএনপি ১৬ দিনব্যাপী যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল তা স্থগিত করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। তাকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার বিষয়েও চিকিৎসকদের যে বোর্ড সেখান থেকে কোনো পরামর্শ দেয় হয় নি। তাদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে। তাদের কাছ থেকে শুনেছি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অবনতিশীল হয় নি। উন্নতিও যে হয়েছে এরকম খবর আমরা পাইনি।’
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। এর পরিবরর্তে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনায় দেশবাসী ও দলের নেতাকর্মীরা দোয়া করছেন তা অব্যাহত থাকবে।’
এর আগে শনিবার (২৯ নভেম্বর) গুলশানে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয় দিবস উপলক্ষে সারাদেশে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচির বিষয়ে বিস্তারিত জানান।
তিনি জানান, পহেলা ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু করবে। মশাল মিছিল কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিন চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছবে। বিজয় মিছিলের মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০১৪ সালের একজন জুলাই যোদ্ধা। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ হলো দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
পহেলা ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরে বিজয় মশাল রোড শো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা। দুই সপ্তাহের এ বিশেষ 'রোড শো' উদযাপনের সময় বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, স্বাধীনতার ঘোষক শহিদ, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার, জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হবে।
তিনি বলেন, ‘একইসঙ্গে জনগণ সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি।এই পুরো আয়োজনে বিএনপির থিম সং, সবার আগে বাংলাদেশ।’ বিভিন্ন বিভাগে স্বাধীনতার ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, ডকুমেন্টারি, ৩১ দফাসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হবে।
দেশের সকল বিভাগ ঘুরে বিজয় মশাল সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছবে। একইদিন ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে 'বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো'।বিজয় মাস উপলক্ষ্যে এই বিশেষ কর্মসূচি ছাড়াও পাশাপাশি আরও অন্যান্য কর্মসূচি উদযাপিত হতে থাকবে। ১৬ ডিসেম্বর মানিক মিয়াতে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হবে বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড 'শো'।
মন্তব্য (০)