
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : দেখে মনে হবে সবুজ ঘাসে ঢাকা কোন খেলার মাঠ, কাছে গিয়ে দেখলে দেখা যাবে ঘাস নয় কচুরিপানার পরিপূর্ণ নদী। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে গাজীখালী নদী। এই নদীর সাটুরিয়া উপজেলার গোপালপুর এলাকা থেকে ধামরাইয়ের বারবারিয়া এলাকা পর্যন্ত নদী জুড়ে রয়েছে কচুরিপানার জট। কচুরিপানার জটের কারণে নৌচলাচল হয়ে পরেছে বন্ধ।
দুই দফায় গাজীখালী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কাজ করে সাটুরিয়া অংশে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যায় করা হলেও কাজের কাজ হয়নি কিছুই সরকারের ১৬ কোটি টাকা গিয়েছে জলে।
সরেজমিনে গাজীখালী নদীর কয়েকটি জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে, গাজীখালী নদী সাটুরিয়ার গোপালপুরে ধলেশ্বরী নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ধামরাই হয়ে সিঙ্গাইরে ধলেশ্বরী নদীতে মিশেছে।নদীতে পানি থাকলেও কচুরিপানা এমন ভাবে জমাট বেঁধে আছে পানি দেখা যায় না, দেখা যায় শুধু পানা। এক সময় এই গাজীখালী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল সাটুরিয়া বাজার। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই নদীতে বড় বড় নৌকায় করে শত শত ক্রেতা বিক্রেতা সাটুরিয়া বাজারে আসতো।
গাজীখালী নদীর উৎস মুখে গোপালপুর এলাকায় ২০১২ সালে প্রায় কোটি টাকা ব্যায়ে ১ কিলোমিটার খনন করা হলেও, কাজ সঠিক ভাবে না হওয়ায় নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে গত ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় গোপালপুর থেকে সাটুরিয়া অংশে গাজীখালী নদী খননে ব্যায় হয় প্রায় ১৫ কোটি টাকা। এরপরও নদীর এই দশায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নদী যথাযথ ভাবে খনন করা হয়নি। দুই দফায় প্রায় ১৬ কোটি টাকা গিয়েছে জলে। খননের বছরেই কেবল নদীতে পানি এসেছিল। এরপর তা বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে পুরো নদীটি কচুরিপানার ঝট লেগেছে। কচুরিপানা সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ না করার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে নৌপথ। একই সাথে অতিরিক্ত কচুরিপানার কারণে নদীর পানি নষ্ট হয়ে মাছ মরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে জেলে পরিবার অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে।
সাটুরিয়ায় মো: গোলাম মোস্তফা (৭৫) বলেন, এক সময় সাটুরিয়া বাজারের খাদ্য গুদামের সামনে পর্যন্ত ছিল গাজীখালী নদী। নদী অনেক ছোট হয়ে গেছে, নদীতে পানি আসে না। নদী খননের নামে ভূয়া প্রকল্পে টাকা আত্নসাৎ করেছে। এ নদীতে বড় বড় নৌকা ও স্টীমার চলাচল করতো এখন কচুরিপানার কারনে ছোট নৌকাও চলে না। আগে নদীতে ছিল শুধু পানি এখন শুধু পানা।
সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ গ্রামের আ: খালেক (৭০) বলেন, আগে এ সময়টাতে সাটুরিয়া হাটে আসার এক মাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। গ্রামের খালগুলোতে নৌকা নিয়ে গাজীখালী নদী দিয়ে হাটে আসতাম। আর এখন হরগজ এর খালগুলোতে পানি পাই না। আর গাজীখালী নদীতে বর্তমানে কচুরিপানার জট থাকায় নৌকা চলাচলতো দুরের কথা পানার কারনে পানি দেখা যায় না।
মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমি নতুন যোগদান করায় গাজীখালী নদী পুনঃখননের জন্য কতো টাকা বরাদ্ধ ছিল তা ফাইল দেখে বলতে হবে। এখন বর্ষার সময় নদীতে তো কচুরিপানা থাকবেই। শুষ্ক মৌসুম আসলে বুঝা যাবে নদীতে কি পরিমান কচুরিপানা আছে, এবং কি ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।বর্তমানে কচুরিপানা অপসারন করার কোন প্রকল্প বা বরাদ্ধ না থাকায় তা অপসারনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না।
মন্তব্য (০)