রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর র্যাবের অভিযানে ২৫৫ বোতল অবৈধ ফেনসিডিলজাতীয় মাদকদ্রব্য জব্দ এবং এক নারী মাদক ব্যবসায়ীকে লালমনিরহাট থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
বুধবার(১৫ এপ্রিল)র্যাব-১৩,রংপুর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিএসসি, র্যাব-১৩, রংপুর-এর একটি আভিযানিক দল লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটি পাকার মাথা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন একটি চক্রকে চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনা।
অভিযানকালে পলাতক আসামি মোঃ আশরাফুল হোসেন (৪৩)-এর আধাপাকা বসতবাড়ির উত্তর পাশে টিনশেড রান্নাঘরের সামনে উঠানে তল্লাশি চালানো হয়।এ সময় সযত্নে লুকিয়ে রাখা ১৬১ বোতল চকো প্লাস (CHOCO+) এবং ৯৪ বোতল এস্কাফ (ESkuf) উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২৫৫ বোতল।
অভিযান চলাকালে ঘটনাস্থল থেকেই মোছাঃ শিউলী (৩৯) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়।তিনি পলাতক আসামি আশরাফুল হোসেনের স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছে।প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে এসব মাদক সরবরাহ করা হতো।
র্যাব আরও জানায়, স্থানীয়দের অভিযোগ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় মূল অভিযুক্ত আশরাফুল হোসেন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাকে গ্রেফতারের জন্য র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামি ও জব্দকৃত আলামত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লালমনিরহাট সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব, রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, বাংলাদেশ আমার অহংকার-এই মূলমন্ত্র ধারণ করে র্যাব দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনা করছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আমরা বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি, যা বিশেষ করে তরুণ সমাজকে বিপথগামী করে তুলছে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র্যাব-১৩’র গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।”
র্যাবের এই কর্মকর্তা জানান,শুধুমাত্র অভিযান পরিচালনা নয়, বরং মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা র্যাবের এই অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে এলাকায় মাদকের বিস্তার অনেকাংশে কমে আসবে এবং তরুণ প্রজন্ম সুরক্ষিত থাকবে।মাদকের বিরুদ্ধে তাদের চলমান অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করতে তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
মন্তব্য (০)