• সমগ্র বাংলা

রংপুরে বৈশাখী রঙে রঙিন, ভোরে জনস্রোত

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরোঃ ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি।তবুও রংপুর জিলা স্কুল মাঠে মানুষের ঢল নেমেছে।লাল-হলুদ শাড়িতে মায়েরা, পাঞ্জাবি পরা বাবারা, আর তাদের হাত ধরে কিংবা কোলে ছোট্ট শিশুরা-সবাই যেন অপেক্ষায় নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর প্রথম প্রভাতে রংপুর নগরী সাজে নতুন রূপে, নতুন প্রত্যয়ে।

রংপরের শিল্পীগোষ্ঠী ও টাউন হলের আয়োজনে প্রভাতী অনুষ্ঠানে ভেসে ওঠে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’-সেই চিরচেনা আহ্বান। গান, আবৃত্তি আর নৃত্যের মূর্ছনায় ধীরে ধীরে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুগ্ধ দর্শকরা করতালিতে বারবার মুখর করে তোলে পুরো প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে মঞ্চে উঠেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা।তাঁদের সংবর্ধনা জানাতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে। এরপর জাতীয় সংগীতের সুরে একাত্ম হয়ে যায় পুরো মাঠ।

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ এ্যাড. মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, “বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই উৎসব আমাদের ঐক্য, সংস্কৃতি ও শেকড়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।সবার অংশগ্রহণে আমরা একটি সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে বর্ষবরণ আয়োজন করতে পেরে আনন্দিত।”

পরে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। বিশাল মুখোশ, রঙিন মুকুট-টোপর আর নানা লোকজ প্রতীক নিয়ে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ অংশ নেয় এতে। তালপাখা, টিয়া পাখি, টাট্টু ঘোড়া-গ্রামবাংলার চিরচেনা উপকরণ যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে শহরের রাস্তায়। নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রা গিয়ে শেষ হয় পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ চত্বরে, যেখানে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।

দিনব্যাপী চলে লোকজ গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও ঐতিহ্যবাহী কাবাডি খেলা। পাশাপাশি টাউন হল মাঠে বসেছে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। মাটির তৈরি সামগ্রী, পিঠাপুলি, হস্তশিল্পের সমাহারে জমে উঠেছে মেলার পরিবেশ। কোথাও জাল ফেলে মাছ ধরা, কোথাও ধীরগতির গরুর গাড়ি-গ্রামবাংলার চিত্র যেন শহরের বুকেই ফুটে উঠেছে।

রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন,“বাংলা নববর্ষ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। গ্রামীণ ঐতিহ্যের মধ্য দিয়েই আমরা আমাদের শেকড়কে ধারণ করি। নতুন বছর বয়ে আনুক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি।”

রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মিলনমেলা। খাল-বিলে মাছ ধরা, বৈশাখী মেলা, গরুর গাড়ির ছন্দ-এসবই আমাদের পরিচয় বহন করে। রংপুরে আমরা সেই ঐতিহ্য ধারণ করে উৎসব উদযাপন করছি। নতুন বছর হোক সম্প্রীতি, ভালোবাসা ও অগ্রগতির প্রতীক।”

বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতীয় জীবনে নতুন আশার সঞ্চার করে। অতীতের গ্লানি ভুলে আমরা যেন নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে পারি। রংপুরসহ সমগ্র দেশ উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধের পথে এগিয়ে যাক-এটাই প্রত্যাশা।”

উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষের কণ্ঠে ছিল একটাই প্রত্যয়-পুরনো সব দুঃখ-গ্লানি ভুলে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন। নতুন সূর্যের আলোয় শুরু হলো বাঙালির প্রাণের এই উৎসব, যা ছড়িয়ে দিচ্ছে আনন্দ, ঐক্য আর সম্ভাবনার বার্তা।

মন্তব্য (০)





image

শ্রীপুরে কালবৈশাখী ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান

শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের শ্রী...

image

নির্মাণাধীন ভবনের পানির রিজার্ভ ট্যাংকে কাজ করতে গিয়ে নিহত ২

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি নির্মাণাধী...

image

ফরিদপুরে ধর্ম অবমাননা ও প্রতারণার অভিযোগে অভিযুক্ত প্রদীপ...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ম অব...

image

রাজধানীর জোয়ারসাহারায় চালু হলো ‘স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর জোয়ারসাহারায় যাত্রা শুরু করেছে দে...

image

যশোরের শার্শার "জিয়া খাল" পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফর...

বেনাপোল প্রতিনিধি: জিয়ার খাল পরিদর্শনে আসেন প্রতিমন্ত্রী ফর...

  • company_logo