রংপুর ব্যুরোঃ যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের আবহে রংপুরে পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরের আলো ফুটতেই নগরীর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানস্থ শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন,সংসদ সদস্য,সিটি কর্পোরেশন,আইনশৃঙ্খলা বাহিনী,পুলিশ প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একে একে শ্রদ্ধা জানান বীর শহীদদের প্রতি। তাদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণ।
এর আগে দিবসের প্রথম প্রহরে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের স্মরণ করে।শহরজুড়ে ছিল এক ধরনের নীরব শ্রদ্ধা আর গর্বের আবহ,যেন প্রতিটি মানুষ নিজ নিজ অবস্থান থেকে স্বাধীনতার ঋণ স্বীকার করছে।
স্বাধীনতার চেতনায় উদ্দীপ্ত হয়ে পুরো নগরীতে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।জাতীয় পতাকায় সজ্জিত হয় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন আয়োজন করে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও দেশাত্মবোধক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সকালে রংপুর স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।শৃঙ্খলাবদ্ধ পদচারণা ও রঙিন পরিবেশনায় শিক্ষার্থীরা তুলে ধরে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও স্বাধীনতার গৌরবগাথা।এই আয়োজন দেখতে স্টেডিয়ামে ভিড় করেন অভিভাবকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা,শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সুধীজন।তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে জেলা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল সাইকেল র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে অংশগ্রহণকারীরা স্বাধীনতার চেতনা ধারণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান।
সারাদিন ব্যাপী রংপুরের বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালন করছে। কোথাও আলোচনা সভা, কোথাও সাংস্কৃতিক আয়োজন-সব মিলিয়ে শহরজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।
রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো: শহিদুল ইসলাম বলেন,মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার আমাদের নতুন করে শক্তি জোগায়। এই দিবস আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।”
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মজিদ আলী বলেন,“দিবসটি শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। নগরবাসী নির্বিঘ্নে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন, এটিই আমাদের বড় সাফল্য।”
মহান স্বাধীনতা দিবস শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক, আত্মত্যাগের ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস। রংপুরের মানুষও যথাযোগ্য মর্যাদায় সেই চেতনাকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে স্বাধীনতার মূল্যবোধ।
দিনভর কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রংপুর যেন আবারও জানিয়ে দিচ্ছে-শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি, স্বাধীনতার পতাকা আজও সমুন্নত।
মন্তব্য (০)