• সমগ্র বাংলা

পাবনা-৩ আসনে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আঞ্চলিকতা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

পাবনা প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৩ আসনে (চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর) পুরোদমে চলছে নির্বাচনী প্রচারণা।

এই আসনে আটজন প্রার্থী হলেও মূলত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন, বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও জামায়াত প্রার্থী আলী আছগার এর মধ্যে।

এবারের নির্বাচনে দলীয় সমর্থন ছাড়াও ভৌগলিকতা ও আঞ্চলিকতা জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা-৪,৮৬,৮০৪ জন। এরমধ্যে চাটমোহর উপজেলার মোট ভোটার ২,৬০,১১৭ জন ভাঙ্গুড়া উপজেলার মোট ভোটার ১,০৮,৯৬৮ জন এবং ফরিদপুর উপজেলার মোট ভোটার ১,১৭,৭১৯ জন। এতে ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার চেয়ে চাটমোহর উপজেলায় ৩৩৪৩০ ভোট বেশি। তাই নির্বাচনে চাটমোহর উপজেলার ভোটারদের ভৌগোলিকতা ও আঞ্চলিকতা পাল্টে দিতে পারে ভোটের হিসাব-নিকাশ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আসনে তিনটি উপজেলার মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ ভোটের উপজেলা চাটমোহর থেকে সর্বশেষ ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেএম আনোয়ারুল ইসলাম বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এরপর ভাঙ্গুড়া উপজেলার বাসিন্দা আওয়ামী লীগের প্রার্থী মকবুল হোসেন নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। সেই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিল ফরিদপুর উপজেলার বাসিন্দা সাবেক এমপি অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজম। এরপর বিতর্কিত তিনটি নির্বাচনে মকবুল হোসেন বিজয়ী হন। 

সর্বশেষ ২০২৪ সালে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী চাটমোহরের বাসিন্দা আব্দুল হামিদ চাটমোহরে প্রায় ১৭ হাজার ভোটে জয়লাভ করলেও অন্য দুই উপজেলায় ৩৫ হাজার ভোটে হেরে পরাজিত হয়। ফলে চাটমোহর উপজেলার ভোটারদের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার প্রয়াস রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এ অবস্থায় বিএনপি'র দলীয় প্রার্থী হাসান জাফির তুহিন সুজানগরের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে চাটমোহরে স্থায়ী বাসভবন নির্মাণ করে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী আলী আছগার নিরবিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে এখানে ভোট ব্যাংক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি'র বিদ্রোহী প্রার্থী চাটমোহরের স্থায়ী বাসিন্দা কেএম আনোয়ারুল ইসলাম তার পূর্বের জনপ্রিয়তা ও আঞ্চলিকতা ইস্যুতে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তাই এ নির্বাচনে চাটমোহরের ভোটারদেরকে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। আসনে সবচেয়ে ছোট উপজেলা ভাঙ্গুড়া। এখানে বিএনপি প্রার্থী দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সুসংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ায় জামায়াতের প্রার্থী আলী আছগার দল মত নির্বিশেষে ভোটের প্রার্থনা করে যাচ্ছেন। এখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কেএম আনোয়ারুল ইসলামেরও নিজস্ব নেতাকর্মী রয়েছে। তাই তিনজন প্রার্থী এই উপজেলায় পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন। আসনের ফরিদপুর উপজেলা থেকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কোন প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের আকৃষ্ট করতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি, জামায়াত ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী। এ উপজেলায় বিএনপি সাংগঠনিকভাবে পূর্ব থেকেই শক্তিশালী হলেও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীর নিজস্ব বলয় রয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতের প্রার্থীর ভোট ব্যাংক রয়েছে এই উপজেলায়। ফলে ভোটারদের ধারণা এই উপজেলায় চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তিন প্রার্থীর মধ্যে। আসনের অন্য প্রার্থীরা হলেন, গণ অধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল খালেক, গণ ফোরামের আশা পারভিন, জাতীয় পার্টির মীর নাদিম, সুপ্রিম পার্টির মাহবুবুর রহমান।

মন্তব্য (০)





image

ঈদে স্বস্তিতে ঘরে ফিরছে লালমনিরহাটের মানুষ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে নারীর টান...

image

রাতভর তীব্র যানজট, সকালে বৃষ্টি ঈদ ছুটির দুদিন শেষ সড়কেই

নিউজ ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়া...

image

লালমনিরহাটে ক্ষুদে ফুটবল নারী টিমের সাফল্য কামনা করলেন ত্...

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার টেপ...

image

নড়াইলের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে যেয়ে জীবন দিল ২৬ বছরে...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নে...

image

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে রংপুরে হাইওয়ে ও টার্মিনালে কড়া নজরদা...

রংপুর ব্যুরো : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রংপুরে সার্বিক...

  • company_logo