ছবিঃ সিএনআই
গাজীপুর প্রতিনিধি : ভোরের আলো পুরোপুরি ফোটার আগেই কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রিয়াজুল ইসলাম খান (২১)। কয়েক মিনিট পর বড়নগর চার রাস্তা মোড়ে তার পালসার মোটরসাইকেলকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয় একটি কাভার্ড ভ্যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর ঢাকার পথে তার অবস্থার অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত নাগরী এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটি ঘটনাস্থলে রেখে চালক ও হেলপার চলে যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৬টা ১০ মিনিটে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ-টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়কের বড়নগর চার রাস্তা মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়াজুল ইসলাম খান উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিয়াখালা গ্রামের ফরিদ খানের ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ পৌরসভার দেওপাড়া এলাকার সেভেন রিংস সিমেন্ট কোম্পানিতে চাকরি করতেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে পালসার মোটরসাইকেল নিয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন রিয়াজুল। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে বড়নগর চার রাস্তা মোড়ে পৌঁছালে ঘোড়াশাল দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যান তার মোটরসাইকেলকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কার পর মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে সড়কের পাশে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রিয়াজুলকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ পাঠানোর পরামর্শ দেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার দিকে নেওয়ার সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাকে কালীগঞ্জের নাগরী এলাকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ড ভ্যানটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলে গাড়িটি রেখে চলে যান বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। দুর্ঘটনায় রিয়াজুলের পালসার মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত দুটি যানই হেফাজতে নিয়েছে।
নিহতের চাচা মুরাদ খাঁনের দাবি, ভোর সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ৬টা ১০ মিনিটের মধ্যে কোনো এক সময়ে দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে কাভার্ড ভ্যান চালিয়ে রিয়াজুলের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়া হয়। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং গাড়িটির গতি কত ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণের বিষয়।
মুরাদ খাঁন জানান, দুর্ঘটনার পর পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজনসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও মোটরসাইকেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
এখন পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ, যান দুটির গতিপথ, সংঘর্ষের ধরন এবং চালক-হেলপার ঘটনাস্থল ছেড়ে যাওয়ার কারণ। এসব বিষয় পরিষ্কার হলেই দুর্ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ টুর্ণামে...
কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমা...
নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর উপজেলার গন্ধর্ব্যখালী এলাকায় চিত...
গাজীপুর প্রতিনিধি : একটি অভিযান শুরু হয়েছিল একটি বাড়িকে ঘিরে...
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে...

মন্তব্য (০)