• লিড নিউজ
  • জাতীয়

বিদায় হজের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: রাষ্ট্রপতি

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সিএনআই

নিউজ ডেস্কঃ রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর বিদায় হজ্বের ভাষণ আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

‎তিনি বলেন, রাসুল (সা.) এর বিদায় হজের ভাষণে মানব মর্যাদা, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক অধিকারের যে মহান শিক্ষা উচ্চারিত হয়েছিল, তা আজও সমগ্র মানবজাতির জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

‎আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী ঈদে-মিলাদুন্নবী (সা.)-১৪৪৮ হিজরি-এর উদ্যাপন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।

‎ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

‎রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের বিশ্বে হিংসা, সংঘাত, অসহিষ্ণুতা, বৈষম্য, উগ্রতা, মিথ্যা ও নৈতিক অবক্ষয়ের যে বিস্তার ঘটছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই।

‎তিনি বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোন জাতিকে শক্তিশালী করে না। অতীতের কর্তৃত্ববাদ, ফ্যাসিবাদ ও অন্যায় যেন আর কখনও ফিরে না আসে, সেজন্য রাসূল (সা.)-কে অনুসরণ করে এবং ধর্মের শান্তি, ন্যায় ও সম্প্রীতির মর্মবাণীকে হৃদয়ে ধারণ করে গণতন্ত্র, ন্যায় বিচার, সুশাসন এবং মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

‎তিনি আরো বলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ বিশ্ব মানবতার জন্য চিরন্তন পথনির্দেশ। তাঁর চরিত্রে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহনশীলতা, মানবিকতা ও পরম মমত্ববোধের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। দরিদ্র, এতিম, অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের প্রতি তিনি ছিলেন মমতাশীল।

‎এসময় তিনি রাসূল (সা.) এর জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সমাজে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।

‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থান নিশ্চিতের লক্ষ্যে তিনি মহানবী (সা.) অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সমন্বয়ে যে সমাজব্যবস্থা, পারস্পরিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা আমাদের জাতীয় জীবনে অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করেন।

‎তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির হেদায়েত, মুক্তি ও কল্যাণের জন্য সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। তাঁর আগমন ছিল মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় ঘটনা। তিনি ছিলেন সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমতস্বরূপ।

‎রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে ধর্মপ্রাণ মানুষ স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করবেন, সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও সম্মানজনক জীবনযাপন করবেন এবং ন্যায়বিচার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য হবে রাষ্ট্র ও সমাজের ভিত্তি।

‎এসময় তিনি বাংলাদেশের ইসলমী সংস্কৃতি উন্নয়নে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও অবদান উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার ধর্মীয় নেতাদের মর্যাদা বৃদ্ধি, তাঁদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

‎ইতোমধ্যে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম সাহেবদের মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে সেবাদানকারীদেরও সম্মানী ভাতা প্রদানের কাজ শুরু হয়েছে।

‎তিনি বলেন, আমি আশা করি, ২০৩০ সালের আগে প্রতিশ্রুতি অনুসারে দেশের সব মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয় মাসিক সম্মানী ভাতার আওতায় আসবে।

‎এসময় তিনি সমাজ থেকে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ, গুজব, হিংসা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অসহিষ্ণুতা দূর করতে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

‎ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও নবী করিম (সা.)-এর জীবনাদর্শ তুলে ধরে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে আলেম ওলামারা অনুপ্রাণিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

‎পরিশেষে ঈদে-মিলাদুন্নবী (স:)-১৪৪৮ হিজরী উদ্যাপন উদ্বোধন ঘোষণা করে বলেন, আমি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি এবং সকল কর্মসূচির সার্বিক সফলতা কামনা করছি।

‎বক্তব্যের পর রাষ্ট্রপতি ঈদে-মিলাদুন্নবী-১৪৪৮ উপলক্ষ্যে প্রকাশিত সিরাত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

‎পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা স্মারক হিসেবে আল কুরআনুল করিম এনসাইক্লোপিডিয়া এর একটি সেট উপহার দেন।

‎অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

‎ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক স্বাগত বক্তব্য দেন।

মন্তব্য (০)





image

‎খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার খাতে আলজেরিয়ার সহযোগিতা...

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আলজেরিয়া...

image

‎বাংলাদেশের জন্য আলজেরিয়ার জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারের আহ্...

নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চি...

image

এমপি গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে

নিউজ ডেস্কঃ সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ...

image

পেট্রল অকটেন ডিজেলের দাম বাড়ল

নিউজ ডেস্ক : আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম। এক লাফে ডিজেল, ক...

image

‘মাদক নির্মূলে শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে’

নিউজ ডেস্ক : প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন...

  • company_logo