• আন্তর্জাতিক

ককরোচের পর এবার মোদির সামনে নতুন বিপদ ‘দিমাগি নকশাল’

  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে ‘দিমাগি নকশাল’ নিয়ে করা মন্তব্য ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ ছড়িয়েছে। লালকেল্লার ভাষণে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র নকশালবাদের প্রায় অবসান হয়েছে বলে দাবি করলেও, নতুন এক মতাদর্শিক ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেন। 

তিনি বলেন, কিছু মানুষ ‘দিমাগি নকশাল’ মানসিকতা লালন করছে এবং তারা দেশে সহিংসতা ও অস্থিরতা ছড়ানোর সুযোগ খুঁজছে। মোদির মতে, এ ধরনের মানসিকতার মানুষদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে আলাদা করা প্রয়োজন এবং যুবসমাজকে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। দলটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোদির এই শব্দচয়নকে আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র সরকারকে প্রশ্ন করার কারণে শিক্ষিত তরুণদের ‘নকশালী’ বা উগ্রপন্থী হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা অত্যন্ত অপমানজনক এবং এটি সরকারের চরম অহংকার ও ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। 

সিজেপি মুখপাত্র আরও মন্তব্য করেন যে ১২ বছর পর দেশের মানুষ মনে ভয় কাটিয়ে স্বাধীনভাবে কথা বলতে শুরু করেছে এবং সরকার যতই বিভেদ তৈরির চেষ্টা করুক, তরুণ প্রজন্ম এখন ঐক্যবদ্ধ।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকেও প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই মন্তব্যকে প্রধানমন্ত্রীর ‘হতাশার লক্ষণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কংগ্রেস ও সিপিআই(এম)-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতাদের দাবি, মোদি বিভিন্ন সময় ‘আরবান নকশাল’, ‘আন্দোলনজীবী’ বা ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর মতো তকমা ব্যবহার করে ভিন্নমতকে দমন করার চেষ্টা করেন। 

‘দিমাগি নকশাল’ শব্দটি সেই নতুন প্রচেষ্টারই একটি অংশ বলে তারা মনে করছেন। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই বিতর্কের জবাবে জানিয়েছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদি সরাসরি বিরোধী নেতাদের উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেননি। তার মতে, যারা মাওবাদী মতাদর্শ সমর্থন করে, সংবিধানকে অস্বীকার করে এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মদত দেয়, তাদের ক্ষেত্রেই এই শব্দ প্রয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরপরই অনলাইন জগতে ‘দিমাগি নকশাল পার্টি’ নামে নতুন একটি হ্যান্ডেলের উত্থান ঘটেছে, যা নেটমাধ্যমে বেশ ভাইরাল হয়েছে। রেডইফ ডট কম জানায়, এটি অনেকটা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র পথ অনুসরণ করছে, যা এর আগে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। 

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মোদির এই শব্দ প্রয়োগের ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং ভিন্নমতের সরব উপস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা ভারতের বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

 

মন্তব্য (০)





image

বাংলাদেশের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত: জয়সওয়াল

নিউজ ডেস্ক : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারস্পরিক স্বার্থ ও স...

image

হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড দাবি করে ট্রাম্পের মানচিত্...

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজ...

image

নেপালের সেনাবাহিনীর জেনারেল হলেন ভারতীয় সেনাপ্রধান

নিউজ ডেস্ক : ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠকে নেপাল সেনা...

image

ফিলিপাইনে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীর এলোপাতাড়ি গুলি, সহপাঠ...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় জাম্বোয়াঙ্গ...

image

‎বিশ্বজুড়ে এক বছরে রেকর্ড ৩৫০ দাতব্যকর্মী নিহত: জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংঘাত-সহিংসতার...

  • company_logo