• সমগ্র বাংলা

একটি গ্রামের স্বপ্ন, একটি সাদা অ্যাপ্রন-কালীগঞ্জের তাজরা সাবেরের গল্প

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি : সব গল্পের শুরুটা খুব জাঁকজমকপূর্ণ হয় না। কিছু গল্প শুরু হয় গ্রামের একটি সাধারণ উঠোনে, বাবা-মায়ের স্বপ্নে, বইয়ের পাতায় ঝুঁকে থাকা এক কিশোরীর নীরব অধ্যবসায়ে। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের তাজরা সাবেরের গল্পও তেমনই।

যে মেয়েটিকে একসময় প্রতিবেশীরা স্কুলে যেতে দেখেছেন হাতে বই নিয়ে, সেই মেয়েই আজ যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে সাফল্যের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর এই অর্জন শুধু একটি সনদ পাওয়ার ঘটনা নয়; এটি একটি পরিবারের দীর্ঘ প্রতীক্ষার সফল পরিণতি, একটি গ্রামের গর্ব এবং নতুন প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল বার্তা।

তাজরা সাবের চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের আইয়ুব সাবের টিপু ও বাকিয়া চৌধুরী লতার একমাত্র কন্যা। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, পরিশ্রমী এবং স্বপ্নপূরণে অবিচল। চারপাশের সীমাবদ্ধতাকে থামার কারণ নয়, বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন তাঁকে নিয়ে যায় যুক্তরাজ্যে। নতুন দেশ, নতুন পরিবেশ, কঠিন পড়াশোনা-সবকিছুর সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে হয়েছে ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে। দিনের পর দিন ক্লাস, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং কঠোর পরিশ্রমের পর অবশেষে তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। সেই মুহূর্তটি যেন শুধু তাঁর নয়, হাজার মাইল দূরে থাকা চৌড়া ভাদগাতী গ্রামেরও এক আনন্দের দিন।

সাফল্যের আনন্দ আরও বড় হয়েছে আরেকটি সুখবরে। যুক্তরাজ্যের ফোর্থ ভ্যালি রয়্যাল হাসপাতালে চিকিৎসক হিসেবে তাঁর নিয়োগ ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। আগামী ২৭ জুলাই তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। একজন শিক্ষার্থীর পরিচয় পেরিয়ে এবার তিনি মানুষের জীবন রক্ষার দায়িত্বে নিজেকে উৎসর্গ করতে যাচ্ছেন।

তবে তাজরা সাবেরের স্বপ্ন এখানেই থেমে নেই। তাঁর কাছে চিকিৎসা পেশা কেবল সম্মানজনক একটি পেশা নয়, এটি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্ব। তিনি বলেন, সময় ও সুযোগ পেলে নিজের দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে চান। বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারলে সেটিই হবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।

তাজরার এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং এলাকাবাসী। তাঁদের বিশ্বাস, এই অর্জন কালীগঞ্জের আরও অনেক ছেলে-মেয়েকে বড় স্বপ্ন দেখতে সাহস জোগাবে।

কখনো কখনো একটি ডিগ্রি কেবল একজন মানুষের পরিচয় বদলায় না; বদলে দেয় একটি জনপদের আত্মবিশ্বাসও। চৌড়া ভাদগাতী গ্রামের তাজরা সাবের সেই আত্মবিশ্বাসের নতুন নাম। তাঁর সাদা অ্যাপ্রনের গল্প হয়তো আগামী দিনের আরও অনেক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণীকে বলে যাবে-গ্রামের ঠিকানা কখনোই স্বপ্নের গন্তব্যকে ছোট করে না।

মন্তব্য (০)





image

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ এর বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

১

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক ...

image

ফরিদপুরে ‘লটারি নয়, ভর্তি পরীক্ষা’ দাবিতে অভিভাবকদের মানব...

২

ফরিদপুর প্রতিনিধি : প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের সরকারি ...

image

পঞ্চগড়ে বিয়ের বয়স কমানোসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধন

৩

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৬ বছর ও ছেলেদের ১৮ বছর ...

image

ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরে শিশু ধর্ষণে দায়ে রাজু শেখ নামে ...

image

পাবনায় জিয়া মঞ্চের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

৫

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনায় জাতীয়তাবাদী জিয়া মঞ্চের ৩৩তম প্রতিষ...

  • company_logo