• সমগ্র বাংলা

কৃত্রিম জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হচ্ছে রাণীনগরের ঐতিহ্যবাহী ত্রিমোহনী হাট

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

নওগাঁ প্রতিনিধি: দীঘদিন পর নওগাঁর রাণীনগরের ঐতিহ্যবাহী ত্রিমোহনী হাট প্রাঙ্গন কৃত্রিম জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্ত হতে চলেছে। বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ভাবে হাটের পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হলেও তা কাজে আসছে না। বহুদিন ড্রেনগুলো পরিস্কার না করার কারণে ময়লা-আবর্জনায় ভরে গেছে। ফলে সহজেই পানি নিষ্কাশিত হতে পারে না।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি হলে সহজে নিষ্কাশিত হতে না পারার কারণে বেশ কিছু সময় সেই পানি হাটের কামারপট্টিতে হাটু পানি জমে যায়। এতে করে হাটবারের দিনে হাটু পানিতে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে কার্যক্রম চালাতে হয়। হাট ইজাদার ও সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে দিনের পর দিন সেই সমস্যার সমাধান জুটছে না।  

এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে পানি নিষ্কাশনে ড্রেনগুলো ভালো ভাবে পরিস্কার করার কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া হাটের অন্যান্য জরুরী সমস্যাগুলো দ্রুতই সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান। এমন খবরে অনেকটাই স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় ও হাটুরিদের মাঝে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মতিন জানান ত্রিমোহনী হাট থেকে সরকার প্রতি বছর প্রায় কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও হাটের কোন স্থানে আধুনিকতার ছোঁয়া এখনো স্পর্শ করেনি। বহুবছর পর হাটের মাত্র কয়েকটি শেডের নষ্ট হওয়া টিন পরিবর্তন করা হলেও প্রধান যে কাজগুলো সেগুলো করতে কেউ পদক্ষেপ গ্রহণ কেও না। বিশেষ করে হাটের পানি নিষ্কাশনের জন্য আধুনিক মানের ড্রেন নেই। বিভিন্ন সময় যে ড্রেনগুলো নির্মাণ করা হয়েছে সেগুলো অপরিকল্পিত ভাবে নির্মাণ করায় ড্রেনগুলো দিয়ে তেমন একটা পানি নিষ্কাশন না হওয়ার কারণে একটু বৃষ্টির পানিতেই হাট প্রাঙ্গনে হাটু পানি জমে যায়। অপরদিকে ড্রেনগুলো পরিস্কার না করার কারণে এবং পানি বের হওয়ার ভালো কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আজ হাটের দুরবস্থা। ইজারাদার হাটে আসা প্রতিটি জিনিসের খাজনা দ্বিগুন আদায় করলেও হাটের ব্যবস্থাপনার দিকে কারো নজর নেই।

কবুতর পট্টির হাটুরে মো: আব্দুস সামাদ জানান বহুবছর পর কবুতর পট্টির শেডের নষ্ট হওয়া টিন পরিবর্তন করে দিলেও উচু শেডে ওঠানামার জন্য নেই কোন সিঁড়ি যার কারণে ক্রেতা-বিক্রেতাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিষয়টি হাট ইজাদার ও স্থানীয় চেয়ারম্যানকে একাধিকবার বলেও আজ পর্যন্ত সমস্যাটির সমাধান হয়নি অথচ প্রতি হাটে আমরা হাটুরেরা নিয়মিত খাজনা প্রদান করে আসছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান হাসান জানান ইতোমধ্যেই হাটের বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ করা হয়েছে। প্রতি বছরই সাধ্যের মধ্যে হাটের আধুনিকায়নের কাজ চলমান রয়েছে। ত্রিমোহনী হাটের কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সমস্যাটি দ্রুতই সমাধানের লক্ষ্যে হাট ইজাদারকে হাটের ড্রেনগুলো পরিস্কার করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ড্রেনগুলো পরিস্কার করার পর যদি পানি দ্রুত নিষ্কাশন হয় তাহলে খুবই ভালো। আর যদি ড্রেনগুলো পরিস্কার করার পরও যদি পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হয় তাহলে ড্রেনের বহিরগমন পথ ও অন্যান্য স্থানে পানি প্রবাহের কোন সমস্যা দেখা গেলে সেগুলো সমাধানের কাজ শুরু করা হবে। অপরদিকে হাটের আধুনিকায়ন ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের উন্নত পরিবেশে হাটের কার্যক্রম চালানোর লক্ষ্যে অনেকগুলো পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। দ্রুতই পর্যায়ক্রমে উপজেলার সকল হাটগুলোর জরুরী সমস্যাগুলো সমাধান করার আশ^াস প্রদান করেন এই কর্মকর্তা।  

মন্তব্য (০)





  • company_logo