• সমগ্র বাংলা

রাণীনগরে বাড়ছে মৎস্য অভয়াশ্রম, রক্ষা পাচ্ছে দেশীয়সহ বিভিন্ন জাতের মাছ

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বিভিন্ন নদী, খাল, বিল, জলাশয় থেকে প্রতিনিয়তই হারিয়ে যাচ্ছে দেশীয়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক জলাশয় শুকিয়ে যাওয়া ও বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম দিয়ে মাছ ধরার কারণে বিলুপ্তির মুখে বিবিধ দেশিয় প্রজাতির মাছ।

এমন অবস্থা থেকে উত্তরণ ও দেশীয় মাছের সংরক্ষণ, প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলাজুড়ে বিশেষ করে জেলার রাণীনগর উপজেলায় বৃদ্ধি করা হচ্ছে মৎস্য অভয়াশ্রমের সংখ্যা। নতুন নতুন মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন ও পুরাতন মৎস্য অভয়াশ্রম সংস্কারের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে দেশীয়সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জলাশয়গুলোতে আগের বছরগুলোর তুলনায় বিবিধ প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে।

রাণীনগর উপজেলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার পলাশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, রাণীনগর উপজেলায় পূর্বে ১টি মৎস্য অভয়াশ্রম ছিলো। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এডিপির আওতায় নতুন আরো ৫টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলার হাতিরপুল এলাকায় রতনডারা খালে হাতিরপুল রক্তদহ মৎস্য অভয়াশ্রম, বিল মুনসুর মৎস্য অভয়াশ্রম, ছোট যমুনা নদীর তারাপলের দহ ও রঘুশাহর দহ মৎস্য অভয়াশ্রম এবং চকপারইল ব্রিজ মৎস্য অভয়াশ্রম নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে আর ২০১৬সালে স্থাপন করা বিল চৌর মৎস্য অভয়াশ্রমকে মেরামত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান মৎস্য অভয়াশ্রম হলো নদী, হাওর, বিল বা কোনো জলাশয়ের নির্দিষ্ট অংশ যেখানে মাছের নিরাপদ প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সারা বছর বা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে। এটি মূলত মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে, যা দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ, বংশবৃদ্ধি এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশ রক্ষার্থে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে জেলা ও উপজেলা মৎস্য বিভাগ কর্তৃক মৎস্য অভয়াশ্রমের সংখ্যা বৃদ্ধির কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে গড়ে তোলা মৎস্য অভয়াশ্রমগুলোতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন প্রজাতির মা মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এই সব মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ না ধরার কারণে চলতি বর্ষা মৌসুমে মা মাছগুলো সহজেই প্রজনন করতে পারছে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মৎস্য দপ্তর কর্তৃক উপজেলায় অবৈধ পন্থায় মাছ ধরা রোধে অভিযান, বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের প্রজনন পরিবেশ বজায় রাখা ও মাছ সংরক্ষণের বিষয়ে মৎসজীবীদের সচেতন করাসহ বিভিন্ন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা হয়েছে। যদি অফিসে পর্যাপ্ত জনবল থাকতো তাহলে দেশী মাছসহ বিভিন্ন জাতের মাছ রক্ষার্থে নানা কর্মকান্ড বাস্তবায়ন আরো জোরদার করা যেতো। তবে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় চলতি বছর রেকর্ড পরিমাণ চায়না দুয়ারী জাল, বানা, কারেন্ট জালসহ বিভিন্ন অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম জব্দ ও বিনষ্ট করা হয়েছে। এতে করে মৎস্য অফিসের কর্ম তৎপরতা বিষয়ে উপজেলাজুড়ে এক আলোড়নের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উপজেলাজুড়ে মৎস্য অভয়াশ্রম বিনির্মাণ ও সংস্কার কাজও চলমান রাখা হয়েছে।  

উপজেলার কুজাইল এলাকার তুষার হোসেন জানান ছোট যমুনা নদীতে বিনির্মাণ করা হয়েছে একাধিক মৎস্য অভয়াশ্রম। আমরা যারা যুবক আছি আমরা সব সময় মৎস্য অভয়াশ্রমের আশেপাশের ও স্থানীয় মৎস্যজীবীদের অভয়াশ্রম সম্পর্কে সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছি। বিগত সময়ের তুলনায় এবার ছোট যমুনা নদী থেকে দেশীয় প্রজাতিসহ বিভিন্ন জাতের মাছ পর্যাপ্ত পরিমাণ পাওয়া যাচ্ছে। মৎস্য অভয়াশ্রমে মাছ নিরাপদে প্রজনন করতে পারার কারণে মাছের প্রাচুর্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তারা মনে করেন। তাই উপজেলার নদী,  বিল ও খালসমূহে আরো বেশি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা উচিত। এছাড়া মৎস্য অভয়াশ্রমের মাছ রক্ষার্থে স্থানীয়রাও ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছেন। দেশীয়জাতসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আধিক্য বৃদ্ধি করতে মৎস্য অভয়াশ্রম রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান জানান দেশীয়জাতসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রক্ষার্থে এবং মাছের উৎপাদন  বৃদ্ধি করতে মৎস্য অভয়াশ্রম বিনির্মাণ এবং রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই। পাশাপাশি মৎস্যজীবী ও স্থানীয়দের মাছ আহরনের ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। অবৈধভাবে মাছ ধরা রোধে এবং  দেশীয় মাছসহ অন্যান্য মাছ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তর একযোগে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জেলার ১১টি উপজেলায় মোট ৪০টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে। এর মধ্যে রাণীনগর উপজেলায় মোট ৬টি মৎস্য অভয়াশ্রম রয়েছে, যার মধ্যে ৪ টি মৎস্য অভয়াশ্রম নতুনভাবে স্থাপন করা হয়েছে চলমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে। সাধারণ মানুষদের সচেতনতা বৃদ্ধি করে আগামীতে যেন আরো বেশি বেশি মৎস্য অভয়াশ্রম সৃজন করে দেশীয় মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বংশ বৃদ্ধিতে এমন কর্মকান্ড অব্যাহত রাখার কথা জানান এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য (০)





image

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জমি চাষ দিতে গিয়ে ট্রাক্টর উল্টে পদ্...

ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে পদ্মা নদীর পাড়ে জমি...

image

বেনাপোলে ছাত্রলীগের মিছিল, ২ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

বেনাপোল প্রতিনিধি:  যশোরের বেনাপোলে ছাত্রলীগের ঝটিকা মি...

image

শুধু প্রকৌশলীরা ঘুষ খায়না, দিনাজপুরে রাজউক চেয়ারম্যান

দিনাজপুর প্রতিনিধি : ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ আইইবি...

image

দাওয়াত খেতে গিয়ে হামলার শিকার বিএনপি নেতার মৃত্যু, গ্রেপ্...

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে ফুফুর বাড়িতে দাও...

image

দিনাজপুরে শেল্টার হোমের সিলিং ফ্যানে ঝুলছিল কিশোরির লাশ

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী মহল্লায় দীপ্তি...

  • company_logo