• সমগ্র বাংলা

খেলতে, সাইকেল চালাতে, স্কুলে যেতে চায় ছোট্ট তাসবিহা!

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সংগৃহীত

গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঙ্গালহাওলা গ্রামের সরু পথ ধরে এগোলেই দেখা মিলবে এক নিষ্পাপ মুখের শিশুর। তার নাম ওয়াকিয়া জান্নাত তাসবিহা। বয়স মাত্র পাঁচ। কিন্তু এই অল্প বয়সেই তাকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে জীবনের এক কঠিন বাস্তবতা।

 

জন্মের পরপরই জটিল শারীরিক সমস্যার কারণে তার বাম পা হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়। অন্য শিশুরা যখন হাঁটতে শেখে, দৌড়াতে শেখে, তখন তাসবিহার পরিবারকে লড়তে হয়েছে বেঁচে থাকার সংগ্রামে।

 

তবুও থেমে নেই তাসবিহার স্বপ্ন। ঘরের এক কোণে বসে থাকা তাসবিহা মৃদু হাসিতে জানায়, “আমি বন্ধুদের সাথে খেলতে চাই। সাইকেল চালাতে চাই। স্কুলে যেতে চাই।”তবে তার কণ্ঠে নেই হতাশা, আছে শুধু স্বপ্ন দেখার সাহস।

 

শিশুটির বাবা মো. হাসান জানান, জন্মের পর থেকেই মেয়ের চিকিৎসায় অনেক টাকা খরচ হয়েছে। ধার-দেনা করে কোনোভাবে চিকিৎসা চালিয়েছেন। এখন চিকিৎসকরা কৃত্রিম পা (প্রোস্থেটিক লেগ) লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে সেটি করানো সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, মেয়েটা খুব সাহসী। সব সময় বলে, বাবা আমি দৌড়াবো। কিন্তু আমি অসহায়। সমাজের সহৃদয় মানুষ যদি একটু এগিয়ে আসেন, তাহলে আমার মেয়েটা হয়তো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।”

স্থানীয়রা জানান, তাসবিহা খুব মিশুক স্বভাবের। অন্য বাচ্চাদের খেলতে দেখলে তার চোখে কৌতূহল আর আক্ষেপ একসঙ্গে ভেসে ওঠে।

কালীগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আফরোজা বেগম বলেন, ইতিমধ্যে তাকে আমরা সমাজকল্যান মন্ত্রণালয়ের সমাজসেবা অধিদফরের মাধ্যমে শারীরিক প্রতিবন্ধি হিসেবে সামাজিক সুবিধার আওতায় এনেছি। তবে তাকে সরকারি আরো কোন সহায়তার আওতায় আনা যায় কিনা চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো কৃত্রিম পা সংযোজন করা গেলে শিশুটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক চলাফেরা ও শিক্ষাজীবনে যুক্ত হতে পারবে। এতে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং মানসিক বিকাশও হবে স্বাভাবিকভাবে।

একটি কৃত্রিম পা হয়তো শুধু একটি অঙ্গ নয়-এটি হতে পারে একটি শিশুর স্বপ্নের সেতুবন্ধন। তাসবিহা খেলতে চায়। তাসবিহা সাইকেল চালাতে চায়। তাসবিহা স্কুলে যেতে চায়। সমাজ কি তার সেই ছোট্ট স্বপ্নটুকু পূরণে পাশে দাঁড়াবে?

মন্তব্য (০)





  • company_logo