ফাইল ছবি
লাইফস্টাইল ডেস্ক: লিভারের যত্নের কথা উঠলেই অনলাইনে নানা ধরনের ‘ডিটক্স’ ড্রিংক, বিশেষ ধরনের ক্লিনজিং ও দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেখা যায়। তবে লিভারকে সুস্থ রাখতে এমন কোনো বিশেষ পানীয়ের প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাসই লিভারের স্বাস্থ্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লিভার সুস্থ রাখবেন কীভাবে?
অনেকেই মনে করেন, ডিটক্স ড্রিংক পান করলে লিভার পরিষ্কার হয় এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের জন্য কোনো ‘ম্যাজিক ডিটক্স’ নেই। কারণ লিভারের নিজস্ব ডিটক্সিফিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে।
তারা জানান, লিভারকে ডিটক্স বা ক্লিনজ করার কোনো ম্যাজিক উপায় নেই। লিভারের নিজস্ব ডিটক্সিফিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে। আসলে যেটি উপকারী, তা হলো এমন খাবার দিয়ে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা, যা ফ্যাটি লিভার, বিপাকীয় স্বাস্থ্য, প্রদাহ এবং সামগ্রিক লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক। লিভারের প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন।
সকালের নাশতা
সকালের নাশতায় পুষ্টিকর খাবার রাখা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। চিকিৎসকরা নিয়মিত নাশতা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণভিত্তিক গবেষণায় নিয়মিত নাশতা খাওয়ার সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে বলেও তারা উল্লেখ করেন। দইয়ের সঙ্গে চিয়া সিড, আখরোট ও ব্লুবেরি হতে পারে ভালো একটি নাশতা। এতে প্রোটিন, ফাইবার, প্রোবায়োটিক, স্বাস্থ্যকর চর্বি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাওয়া যায়।
দুপুরের খাবার
দুপুরের খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ফাইবার ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, মাছের সঙ্গে সাদা বিন, অলিভ অয়েল, টমেটো ও অ্যাভোকাডো খাওয়া যেতে পারে। এতে ওমেগা-৩, ফাইবার, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি পাওয়া যায়, যা লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।
রাতের খাবার
রাতের খাবারে প্রোটিন, ওমেগা-৩, ফাইবার এবং কপি জাতীয় সবজি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা জানান, মিসো সস দিয়ে তৈরি স্যামন মাছের সঙ্গে মিষ্টি আলু ও ব্রোকলি খাওয়া যেতে পারে। এতে প্রোটিন, ওমেগা-৩, ফাইবার এবং ক্রুসিফেরাস সবজি থাকে, যা লিভারের স্বাভাবিক ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করে।
পানীয়
পানীয়ের ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলসমৃদ্ধ পানীয় বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন তারা। এর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক কফি, গ্রিন টি, ম্যাচা এবং বেরির স্মুদি। চিকিৎসকরা বলেন, এসব পানীয়ে পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।
মিষ্টি খাবার কি পুরোপুরি বাদ?
লিভার ভালো রাখতে মিষ্টি খাবার পুরোপুরি বাদ দিতে হবে, এমন নয়। তবে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় নিয়মিত খাওয়া লিভারের জন্য আদর্শ নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেজার্টও খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। আপেলের সঙ্গে বাদামের মাখন, ডার্ক চকলেট, মধু ও দারুচিনি খাওয়া যেতে পারে। এতে ফাইবার, পলিফেনল ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পাশাপাশি মিষ্টি খাওয়ার চাহিদাও পূরণ হতে পারে।
অর্থাৎ, লিভার সুস্থ রাখতে কোনো আকস্মিক ‘ডিটক্স’ নয়; বরং প্রতিদিনের খাবারে পুষ্টিকর উপাদান রাখা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ ডেস্কঃ লিভার শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এটি ...
নিউজ ডেস্ক : হৃদরোগের ঝুঁকি শুধু বয়স বা বংশগত কারণেই বাড়ে না, প্রতিদিনে...
নিউজ ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ক্যানসারগুলোর মধ্যে ফুসফ...
নিউজ ডেস্ক : লিভারে মেদ জমা মোটেও ভালো কথা নয়। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এখন...
নিউজ ডেস্ক : ফিটনেসে কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে নিয়মিত ব্যায়াম করা অত্যন্ত গুরুত্...

মন্তব্য (০)