• প্রশাসন

‎পথে ৩ বার ফসকে যান ডেভিড ইমন, নেটওয়ার্ক এড়াতে ব্যবহার করতেন বিদেশি নম্বর-অ্যাপ ‎

  • প্রশাসন

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ পাহাড়তলী এলাকায় যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি ও হামলাসহ একাধিক ঘটনার তদন্তে নাম উঠে এলেও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে ছিলেন আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন।

‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে ধুলো দিতে ব্যবহার করতেন না দেশীয় সিম। যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহার করতেন বিদেশি সিম ও মোবাইল অ্যাপ।

‎দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনার পরও ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারে পুলিশকে বেগ পেতে হয়েছে। গ্রেপ্তারের অভিযান চলাকালে তিনবার হাতছাড়া হয়ে যান ইমন।

‎আজ বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রামের নতুন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরেন।

‎তিনি জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় আলোচিত যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে।

‎তদন্তে নেমে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য পায় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গত ২২ জুলাই মাসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামি ইলিয়াস ওরফে হামা ইলিয়াসকে ডিএমপি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে আমরা অনেক তথ্য পাই। তাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, চাঁদাবাজদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারি।’

‎তিনি জানান, সম্প্রতি ইন্টারনেট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিককে ফোন করে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবির কয়েকদিন পর কিশোর গ্যাংয়ের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় ইলিয়াসের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পায় পুলিশ।

‎মাসুদ বলেন, ‘তারা অত্যন্ত ধুরন্ধর এবং খুবই চালাক। তারা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকে ও সিম ব্যবহার করে না। বিদেশি নম্বর, অ্যাপসের মাধ্যমে কথা বলে।’

‎‘ডেভিড ইমন যখন দেখে তার ধরা পড়ার সম্ভাবনা আছে বা বেশি আলোচিত হয়ে গেছে। তখন সে বিদেশে থাকা গ্যাং লিডার সাজ্জাদ ওরফে বড় সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পরামর্শে ইমন ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে বলে আমরা জানতে পারি।’

‎চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাওয়ার সময় কুমিল্লা জেলা পুলিশের সহযোগিতায় দাউদকান্দি এলাকায় ইমনকে আটক করার চেষ্টা করা হয়। মাসুদ বলেন, ‘আমরা সফল হতে পারি নাই। এরপর ঢাকায় ঢুকে যায়। তারা ওখানে গিয়ে গাড়ি বদল করে, এমনকি তাদের চালক পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলে।’

‎‘আমাদের কাছে খবর আসে (ইমন) খুলনার দিকে যাবে। আমরা পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় চেকপোস্ট স্থাপন করি। মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সহায়তা করে। কিন্তু আমাদের ব্যাড লাক, আমরা ওই সময় ওখানে ধরতে পারি নাই। এর পরে আমরা পাস করে চলে যাই।’

‎তিনি বলেন, ‘আমরা জানি যে সে যাবে খুলনায়। খুলনা জেলা পুলিশের সহায়তায় রূপসার দিকেও আমরা একটা চেকপোস্টের ব্যবস্থা রেখেছিলাম। কিন্তু তারা বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। হঠাৎ গোপালগঞ্জ থেকে নড়াইলের দিকে ঢুকে যায়। তখন রাত প্রায় সাড়ে ৩টার মতো বাজে। এই সময় আসলে আমরা তখন কূল পাই নাই। নড়াইল থেকে বের হয়ে গেছে।’

‎‘যশোর পুলিশের সহায়তায় ঝুমঝুমপুর এলাকায় ভোর ৫টা বা সোয়া ৫টার দিকে আমরা ডেভিড ইমন ও আরও তিনজন—সব মিলিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই,’ যোগ করেন তিনি।

‎এই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘ডেভিড ইমন ও তিনজন, তারা সবাই পরস্পরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং শুটার। বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে তারা ওস্তাদ।’

‎ডেভিড ইমন গ্রেপ্তারের পর বিষয়টি প্রচার হয়ে যাওয়ায় অপারেশনের পরবর্তী কার্যক্রমগুলো কঠিন হয়ে গিয়েছিল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে পারেনি বলেও জানান তিনি।

‎মাসুদ জানান, যখন ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার অভিযান চলছিল, ঠিক একই সময়ে চট্টগ্রামের আরেক কুখ্যাত ও শীর্ষ সন্ত্রাসী নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অবস্থান করছিলেন।

‎‘আমাদের আরেকটি টিম নোয়াখালীতে অবস্থান করছিল। টিভি স্ক্রলে যখন আসে “শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার”, তখন আমাদের ওই টিম দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সে বেঁচে গেছে বা ওখান থেকে পার পেয়ে গেছে।’

‎চট্টগ্রাম অঞ্চলের সব অপরাধী, সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

‎মাসুদ আরও জানান, ডেভিড ইমনের ঝিকরগাছা হয়ে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। কে সীমান্ত পার করবে এবং ভারতে কে রিসিভ করবে সব ঠিক করা ছিল। এমনকি তার কাছে আধার কার্ড পাওয়া গেছে, যেটা ভারতে ব্যবহার করার কথা ছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে ডেভিড ইমনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য (০)





  • company_logo