কক্সবাজার প্রতিনিধি :বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার-১ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না, আমাকে গুম করা হয়েছিল হত্যার উদ্দেশে। আপনারা দোয়া করেছেন, রাব্বুল আলামিন আপনাদের মোনাজাত শুনেছেন এবং আমাকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন জীবন দিয়েছেন। আমার এই নতুন জীবন, এই বর্ধিত হায়াত এ দেশের মানুষের সেবা করার জন্য। আমার জন্ম হয়েছে এ দেশের উন্নয়নের জন্য, স্বাধীনতা রক্ষার জন্য।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল চত্বরে আয়োজিত শেষ নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, একটি দল একদিকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে, অন্যদিকে আবার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শোনাচ্ছে, এটি জাতির জন্য চরম দুর্ভাগ্যের। যারা কখনো এ দেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করেনি, যারা মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজনীতি করেছে, তারাই আজ ইতিহাসের বয়ান দিচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “যারা এ দেশের মা-বোনদের পাক হানাদার বাহিনীর হাতে তুলে দিয়েছে, তারাই আজ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বলে। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ভাড়া করে এনে তারা দাবি করে তাদেরও একজন মুক্তিযোদ্ধা আছে। স্বাধীনতাবিরোধীদের মুখে মুক্তিযুদ্ধের বয়ান শুনতে হচ্ছে—এটাই আমাদের জাতির দুর্ভাগ্য।”
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহ জনগণের দোয়া কবুল করেছেন বলেই তার জন্ম হয়েছে এ দেশের মানুষের সেবা করার জন্য এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে সহযোগিতা করুন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণের কাছে অনেক আশা ও ভরসা নিয়ে হাজির হয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একটি ঐতিহাসিক ও প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই এ দেশের জনগণের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। আজ দায়িত্ব ও কর্তব্যের বোঝা অনেক বেশি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পক্ষের দল উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা অর্জন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, যারা নির্বাচনে তার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের তিনি স্বাগত জানাচ্ছি এটাই গণতন্ত্রের সংস্কৃতি। তবে তাদের অতীত ইতিহাসে স্বাধীনতা ও উন্নয়নের কোনো বাস্তব অবদান নেই—এ কথা দেশের মানুষ জানে।
নির্বাচনে জয়ী হলে পেকুয়া ও চকরিয়াকে উন্নয়নে ভরপুর করে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তার রাজনীতিতে আসা।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়ে শহীদ হয়েছেন একটি বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্রের জন্য, গণতান্ত্রিক সংস্কারের জন্য। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমরা এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে ভোটাধিকারের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য আর কোনো মানুষকে জীবন দিতে হবে না। বিএনপির যা কিছু পরিকল্পনা, রাষ্ট্র ভাবনা সবকিছুই এদেশের মানুষকে কেন্দ্র করেই। সবাই মিলে সারাদেশে ধানের শীষকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচিত করি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এমন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বির্নিমান করবে যেটা ছিলো শহিদদের প্রত্যাশা এবং এদেশের মানুষের জন আকাঙ্ক্ষা। বিএনপিকে নির্বাচিত করলে দেশের মানুষ শক্তি পাবে কারণ বিএনপি এদেশের গণ মানুষের দল।
ধানের শীষে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ইতিহাস এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাস, বারেবারে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের ইতিহাস। আগামী ১২ তারিখ আপনারা সবাই নির্ভয়ে ধানের শীষে ভোট দেবেন, ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র ত্যাগ করবেন না। ইনশাআল্লাহ, জনগণের বিজয় হবে, কারণ বিএনপির সরকার জনগণের সরকার।
শেষ জনসভায় চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে আগত বিএনপির নেতাকর্মী ও ধানের শীষের সমর্থকদের অংশগ্রহণে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে সভাস্থল, সংশ্লিষ্টদের ধারণা এতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটেছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের সহধর্মিণী এডভোকেট হাসিনা আহমদ, তাদের পুত্র সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, মাতামুহুরি সাংগঠনিক উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম হায়দার, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা ওলামা দলের আহবায়ক আলী হাসান চৌধুরীসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
মন্তব্য (০)