নওগাঁ প্রতিনিধি: চলতি শীত মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে কনকনে হাড় কাঁপানো শীত। বর্তমানে এই অঞ্চলের উপর দিয়ে মৃদু শৈত প্রবাহ বইতে শুরু করেছে। শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত এই অঞ্চলের তাপমাত্রা ৯থেকে ১৩ডিগ্রির মধ্যে ওঠানামা করছে।
অপরদিকে উত্তরের হিমেল হাওয়া শীতের সেই তীব্রতাকে বাড়িয়েছে আরো কয়েকগুন। এতে করে গরম কাপড়ের অভাবে চরম বেকায়দায় পড়েছে শীতার্ত মানুষরা বিশেষ করে ছিন্নমূল, ভবঘুরে, নিম্ম আয়ের খেটে খাওয়া বিভিন্ন শ্রেণির শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শিশু সদনের শিশুরা।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ১১টি উপজেলায় শীতার্ত মানুষদের একটু গরমের ছোঁয়া দিতে সরকারি ভাবে শীত বস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা মোতাবেক নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান প্রায়ই প্রতিদিনই সন্ধ্যার পর সরকারের উপহার হিসেবে গরম কাপড় (কম্বল) গাড়িতে করে নিয়ে নিজস্ব তদারকিতে শীতার্ত মানুষদের খুঁজে খুঁজে তাদের শরীরে জড়িয়ে দিচ্ছেন গরম কাপড়।
ইতোমধ্যেই উপজেলার রেলস্টেশনে থাকা ছিন্নমূল মানুষ, এতিমখানা, শিশু সদন, মাদ্রাসা, বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের শ্রমিক, হাট-বাজারের নৈশ্যপ্রহরীদের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল প্রদান করা হয়েছে। আগামীতে পর্যায়ক্রমিক ভাবে প্রাপ্যতা অনুসারে উপজেলার সকল এতিমখানা, মাদ্রাসা, শিশু সদন ও শ্রমজীবী সংগঠনসহ শীতবস্ত্র পাওয়ার মতো যোগ্যদের মাঝে শীতবস্ত্র পৌছে দেওয়া হবে। যতদিন শীতের দাপট অব্যাহত থাকবে ততদিন প্রকৃত শীতার্তদের মাঝে এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের শ্রমজীবী মানুষ, এতিমখানা ও ছিন্নমূল মানুষসহ শীতার্ত মানুষদের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম। শনিবার সন্ধ্যার পর উপজেলার গোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে, কাশিমপুর ইউনিয়নের নগরব্রীজ, ত্রিমোহনী বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার শীতার্ত মানুষদের মাঝে সরকারের উপহার হিসেবে মাঝে কম্বল বিতরণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান জেলার শীতার্ত মানুষদের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ গরম কাপড় (কম্বল) মজুত রয়েছে। শীতের দাপট শুরুর পর থেকে নির্দেশনা মোতাবেক প্রতিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা তাদের উপজেলার শীতার্ত ছিন্নমূল, হরিজন পল্লী, ভবঘুরে ও নিম্ম আয়ের শীতার্তদের খুজে খুজে বের করে সরকারের শীতবস্ত্র পৌছে দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানরাও জেলা প্রশাসনের ত্রাণ তহবিলে শীতবস্ত্র হস্তান্তর করছে। জেলাজুড়ে ১লাখ শীতবস্ত্র বিতরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অর্ধলক্ষাধিক শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। জেলার একটি শীতার্ত মানুষও যেন শীতে কষ্ট না পায় সেই জন্য যতদিন শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকবে ততদিন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণের এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে বলে জানান জেলার এই প্রধান কর্মকর্তা।
মন্তব্য (০)