• বিশেষ প্রতিবেদন

দিন দিন পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রাণীনগরের ঐতিহ্যবাহী রক্তদহ বিল

  • বিশেষ প্রতিবেদন

ছবিঃ সিএনআই

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি: দিন দিন ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নওগাঁর রাণীনগরের শতবছরের ঐতিহ্য রক্তদহ বিল ও পাখি পল্লী। উত্তরের জেলা নওগাঁ শহরের নিকটবর্তি একটি উপজেলা হচ্ছে রাণীনগর। সৌন্দর্যের লীলা ভূমি হিসেবে ঐতিহাসিক রক্তদহ বিলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ইতিমধ্যই দেশজুড়ে পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে রাণীনগর উপজেলাকে। এছাড়া বিলে কোছমুড়ি নামে একটি দরগাহ রয়েছে যেটি বন্যার পানিতেও ডোবে না।

নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার মধ্যে অবস্থিত ঐতিহাসিক রক্তদহবিল। ব্রিটিশ শাসন আমলে এই বিল এলাকায় ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে ফকির মজনু শাহের বাহিনীর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয় যে যুদ্ধে নিহত সৈনিকদের রক্তের বন্যা বয়ে যায় এই বিলে। তখন থেকে এই বিলের নামকরন হয় রক্তদহবিল। এই বিলকে আরো পর্যটকবান্ধব করতে রক্তদহবিল খনন, বিলের চারপাশ দিয়ে পর্যটকদের চলাচলের জন্য রাস্তা, নৌকার সহজ যাতায়াত পথ সৃষ্টি করা, চারপাশ দিয়ে পরিবেশ ও পাখিবান্ধব গাছ রোপন, বিলের সকল সংযোগখাল খনন করা, পাখি পল্লীকে আরো আকর্ষনীয় করাসহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া পাখি পল্লীতে পাখিদের অবাধ আনাগোনা ও বসবাসের জন্য রোপন করা হচ্ছে পরিবেশ ও পাখিবান্ধব গাছ, ঝুলন্ত একটি সেতু নির্মাণ করাসহ নানা পর্যটকবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে যেগুলো সুচারু ভাবে বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন ইউএনও রাকিবুল হাসান।  

এছাড়া উপজেলার সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা খাতকে ঘিরে ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: রাকিবুল হাসান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আউয়ালের দিক নির্দেশনা মোতাবেক ও সার্বিক সহযোগিতায় ইতিমধ্যই অনেকগুলো ছোট ছোট উদ্যোগ বাস্তবায়ন করায় ইউএনও রাকিবুল হাসানের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেছে উপজেলাবাসী।

নওগাঁ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলার গোনা গ্রামের বাসিন্দা প্রফেসর মো: শরিফুল ইসলাম খান জানান তিলোত্তমা শহর নওগাঁর সবচেয়ে নিকটবর্তি উপজেলা হিসেবে রাণীনগরে কোনো ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানাও গড়ে ওঠেনি। ভৌত অবকাঠামো খাতে তেমন কোন উন্নয়নের ছোঁয়াও লাগেনি। তবে গত বছরের শেষের দিক থেকে ক্রমশ পর্যটন সমৃদ্ধ উপজেলার দিকে এগিয়ে চলেছে। এর ফলে পর্যটন খাতে বিশাল সম্ভাবনার এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বিশেষ করে রক্তদহ বিল এলাকাকে কেন্দ্র করে প্রকৃতির সান্নিধ্যে যে পাখি পল্লী, মৎস্য অভয়ারন্য ও পর্যটন এলাকা বিনির্মাণ করা হয়েছে এবং প্রতিনিয়তই পর্যটনমুখি যে সকল নানা কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং কচুরিপানা সরিয়ে পুরো রক্তদহ বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার যে যুগান্তকারী উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সাবেক এই অধ্যক্ষ।

উপজেলার সিংড়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ও পাখি পল্লী এলাকার চটপটির দোকানদার শাহিন ইসলাম জানান রক্তদহ বিলকে ঘিরে যে পাখি পল্লী ও পর্যটন এলাকা গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে শতাধিক মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এই পর্যটন এলাকাকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসন যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে যেগুলো বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার নাম দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে। পর্যটকদের আগমনের কারণে পাল্টে যাবে এই এলাকার অর্থনৈতিক দৃশ্যপট। আরো নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।  

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক আমিনুল ইসলাম জানান মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি এই রক্তদহ বিল ও পাখি পল্লীর কথা জেনেছি। বর্ষা মৌসুমে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য পুরো পরিবারসহ এসেছি। নৌকায় রক্তদহ বিলে পানির থৈ থৈ ও কুলুকুলু ধ্বনি সহজেই একজন মানুষের মনকাড়বে। এছাড়া গাছে গাছে পাখির কোলাহল ও প্রকৃতির অপার রূপ অসাধারণ। এছাড়া রতনডালাখালের পাশ দিয়ে গাছের ফাঁকে ফাঁকে বসার সুন্দর ব্রেঞ্চ প্রকৃতির সঙ্গে কিছু সময় নিরিবিলি কাটানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। আরো আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা গেলে এই স্থানটি এক সময় জাতীয় সম্পদে পরিণত হবে।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপজেলার ত্রিমোহনী বাজার এলাকার বাসিন্দা প্রবীর কুমার পাল জানান উপজেলার গলার কাটা রাণীনগর রেলগেট প্রশ্বস্তকরণ, নওগাঁ-রাণীনগর-আত্রাই আঁকা-বাঁকা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশ্বস্তকরণ ও পর্যটকবান্ধব রক্তদহ বিল এলাকাকে নিয়ে উপজেলা প্রশাসন যে সকল যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেগুলো সম্পন্ন করতে পারলে রাণীনগর উপজেলা দেশের মধ্যে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে পরিগণিত হবে। রক্তদহ বিল ঘিওে গৃহিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডেও পক্ষ থেকেও উপজেলা প্রশাসনকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে।  আগামীতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে বলে তিনি জানান।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: রাকিবুল হাসান বলেন, ইতিহাস আর ঐতিহ্যে ভরা রাণীনগরকে নতুন আঙ্গিকে সাজানোসহ নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য চলতি বছর পর্যটন খাতে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কাউকে না কাউকে ভালো কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হয়। তাই তিনিও রাণীনগরকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে বিনির্মাণ করার লক্ষ্যে যোগদানের পর থেকেই অনেকগুলো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ইতিমধ্যই সবার সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা তিনি সম্পন্ন করতে পেরেছেন। আগামীতে যিনি আসবেন তিনি নিশ্চয় উপজেলাবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অবশ্যই গৃহিত ও চলমান উদ্যোগগুলো বাস্তবায়নে  উদ্যোমী হবেন। তিনি সর্বোপরি এই উপজেলার জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন প্রকল্প চিহ্নিত করে সেগুলো বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo