দিনাজপুর প্রতিনিধি: সারাদেশে গ্যাস সংকট, ভয়াবহ লোডশেডিং, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদসহ ১১দফা দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নের্তৃত্বাধীন ১১দলীয় জোট।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের সাধারণ জনগণ বর্তমানে চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। সারাদেশে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে শিল্প-কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং গৃহস্থালির স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ভয়াবহ লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ প্রতিটি খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
অন্যদিকে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি এবং প্রকৃত ব্যবহার অপেক্ষা অধিক পরিমাণে ভূতুড়ে বিল আদায়ের অভিযোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি চাল, ডাল, তেল, চিনি, সবজি, মাছ, মাংসসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রা অসহনীয় হয়ে উঠেছে।
স্মারকলিপিতে জনস্বার্থে দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখার সাবেক আমির আফতাব উদ্দীন মোল্লা, সাবেক আমির আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি রাজিবুর রহমান পলাশ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম, এনসিপি জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক আবির, জাগপা কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরুল কায়েস রূপম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি জেলা কমিটির আহবায়ক রুহুল আমীনসহ ১১ দলীয় ঐক্যে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গত তিন মাসে আদায়কৃত সকল ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে অবিলম্বে গণশুনানির আয়োজন করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের যথাযথ ক্ষতিপপূরণ নিশ্চিত করা, প্রিপেইড ও পোস্টপেইড মিটারে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া এবং অন্যান্য সকল অযৌক্তিক অবৈধ চার্জ অবিলম্বে বাতিল করা, গত তিন মাসে ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও অন্যান্য খাতে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ কোনো আবেদন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেরত দেওয়া। বিদ্যুৎ বিলিং ব্যবস্থায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পোস্টপেইড বিলের সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে মিটার রিডিং লগ সংযুক্ত করা এবং প্রিপেইড মিটারের ভেন্ডিং সফটওয়্যার ও বিলিং ব্যবস্থার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অডিট পরিচালনা করা, "গ্যাস না থাকলে বিল নয়"-এই নীতি অবিলম্বে কার্যকর করা এবং সরবরাহহীন সময়ের জন্য কোনো বিল আদায় না করা,
গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও কূপ খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা।
মহেশখালী এলএনজি টার্মিনালের ব্যর্থতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট সময়সূচি জনসম্মুখে প্রকাশ করা ও একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ পরিকল্পনা ঘোষণা করা,
গ্যাসের সিস্টেম লস, চুরি ও অপচয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, স্মার্ট মিটারিং চালু, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং পুরোনো পাইপলাইন দ্রুত সংস্কারের মাধ্যমে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্র থেকেই অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
শিল্প, ব্যবসা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান রক্ষা করা। এলপিজি ও সিএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্পে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে কার্যকর নজরদারি জোরদার, বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্ধ্বগতি রোধে বাজারে সিন্ডিকেট, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার, ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত, কৃষক ও ভোক্তাবান্ধব বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
মন্তব্য (০)