নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের ৫টি সংসদীয় আসনে ভোটে জয়ী হয়েছেন ৫ জন যাদের মধ্যে একটি আসন রীতিমত চমক হয়েছে। বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাজিমাত দেখিয়েছেন এনসিপির শাপলা কলির আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি হারিয়ে দিয়েছেন বিএনপি জোটের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমীকে। অপর চারটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে লড়াই করেছে জামায়াতে ইসলামী ও জোটের প্রার্থীরাও।
১২ ফেব্রুয়ারী ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণার শুরু থেকেই দেখা দেয় একের পর এক চমক ও স্নায়ুযুদ্ধ। নারায়ণগঞ্জ-৪ ও ৫ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়।
নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনে চমক দেখিয়ে জিতলেন মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভুইয়া। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০২৮৯হাজার ৪৬১ ভোট। ১২৯টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৪ হাজার ৪১৫জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৭১। বাতিল হয়েছে ৪৯৬৭ ভোট।
নারায়ণগঞ্জের ৫ টি আসনের বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে একমাত্র দিপু ভুইয়াই ছিল সুবিধাজনক স্থানে। আগে থেকে অনুমেয় ছিল নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের মধ্যে দিপু ভুইয়া হাত ধরে নারায়ণগঞ্জ-১ ধানের শীষ প্রতীকে বিশাল বিজয় আসতে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ঘটেছেও এমনটাই।
এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেছেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদ। ভোটের পরিমাণে তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ধারে কাছেও পৌছাতে পারেনি। যা নজরুল ইসলাম আজাদের অভাবনীয় সাফল্য।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদের প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২৪ হাজার ২৯১। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের ইলিয়াস মোল্লা পেয়েছেন ৮১ হাজার ৫৪ ভোট। ভোটের হিসেবে তার রেকর্ড পরিমাণ।
নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে বিএনপির আজহারুল ইসলাম মান্নান ও জামায়াতে ইসলামীর ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়ার লড়াই ছিলো হাড্ডাহাড্ডি।
ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া সিদ্ধিরগঞ্জের ৬৭ টি কেন্দ্রে ৫১ হাজার ৪৪৫ ভোট। তার বিপরীতে আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৮৪৫ ভোট। কিন্তু সোনারগাঁয়ের ১৪৩ টি কেন্দ্রে ড. ইকবাল হোসেন ভূইয়া পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৭৮ ভোট এবং আজহারুল ইসলাম মান্নান পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ২৫৮ ভোট।
এদিকে আজহারুল ইসলাম মান্নানকেও ভোটের মাঠে আটকিয়ে দেয়ার জন্য নানাভাবে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে নানাভাবে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ষড়যন্ত্রই কাজে আসেনি।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে তরুণ প্রার্থী হিসেবে চমক দেখিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আব্দুল্লাহ আল আমিন। তিনি প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেই বিজয়ী হয়েছেন। সেই সাথে বয়সেও তিনি অন্যদের তুলনায় তরুণ। আর এই তরুণ বয়সেই সংসদ সদস্য হিসেবে জয়ী হয়ে আলোচনায় চলে এসেছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের ১৭৭ টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬৫ টি ভোটকেন্দ্রে আব্দুল্লাহ আল আমিন পেয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ৩৩৬ ভোট এবং মুফতি মনির কাসেমী ৭৫ হাজার ৯৭৭ ভোট।
তবে আব্দুল্লাহ আল আমিনের ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করাটা তার জন্য সহজ ছিলো না। নানা রকমের প্রতিবন্ধকতা উপেক্ষা করেই ভোটের মাঠে লড়তে হয়েছে তাকে।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হলো নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। শহর বন্দর নিয়ে গঠিত এই আসনে জয়ী হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল কালাম। তিনি এর আগে এখানে আরো তিনবার জয়ী হয়েছেন। এবার নিয়ে চতুর্থ বারের মতো শহর বন্দরের ভোটারদের ভালোবাসায় সিক্ত হলেন কালাম।
নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট আবুল কালাম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১,১৪,৭৯৯ ভোট।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের যুগ্ন মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন পেয়েছেন দেয়াল ঘড়ি প্রতিক থেকে ১,০১,১৯৬ ভোট।
মন্তব্য (০)