• সমগ্র বাংলা

ঈশ্বরগঞ্জে মুহুরী রতনের দাপটে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের রামগোবিন্দপুর এলাকায় মুহুরী খায়রুল ইসলাম রতন ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি এবং জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, জমি বেচাকেনা হলেই মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়। মতের অমিল হলে আদালতের মাধ্যমে একের পর এক মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানি করা হচ্ছে, এমনকি ভেঙে দেওয়া হচ্ছে ছেলে-মেয়েদের বিয়েও।

সম্প্রতি এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা এলাকায় গেলে শতাধিক ভুক্তভোগী জড়ো হয়ে মুহুরী রতন, তাঁর ভাই মেহেদী হাসান মঞ্জু ও পিতা সাহেদ আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের নানা অনিয়ম ও নিপীড়নের অভিযোগ তুলে ধরেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, খায়রুল ইসলাম রতন দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একজন আইনজীবীর সঙ্গে মুহুরী হিসেবে কাজ করছেন। আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রভাব কাজে লাগিয়ে এলাকায় তিনি ভয়ভীতি ও আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রামগোবিন্দপুর গ্রামের আবুল খায়ের ১৫ শতক জমি ক্রয় করতে গেলে রতন তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই বছরই আব্দুল বারেককে ব্যবহার করে জমিটির ওপর মামলা দায়ের করা হয়। সম্প্রতি ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বারেকের ছেলে জালাল মিয়াকে বাদী করে খায়েরসহ ২১ জনের বিরুদ্ধে নতুন একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অধিকাংশ সাক্ষী দাবি করেছেন, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

ছাহারা খাতুন নামে এক নারী জানান, তাঁর ছেলে আব্দুর রশিদ ঢাকায় অবস্থান করলেও তাকে অবহিত না করেই মামলায় ১০ নম্বর সাক্ষী করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন ৭ নম্বর সাক্ষী ইছব আলী। ৯ নম্বর সাক্ষী আব্দুল হান্নান বলেন, তার অনুমতি ছাড়া মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তার নাম ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, মামলার বাকি ১১ জন সাক্ষীর নামও প্রকৃত সাক্ষ্য ছাড়াই পারিবারিক সূত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া মোফাসসেল ও এরশাদ নামে দুই প্রবাসীর জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে খুঁটি পুঁতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রতন, তাঁর ভাই মঞ্জু ও মাসুদ নামের এক সহযোগীর বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী হাসিম উদ্দিন বলেন, রতন মূলত একজন দালাল। আদালতে কাজ করার সুবাদে মানুষকে বেকায়দায় ফেলে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তার কাজ। বারেক নামের একজনকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে আমার ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা নষ্ট করিয়েছে।

আব্দুর রহমান জানান, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ও নিজের নামে রেকর্ডভুক্ত সাড়ে ১২ শতাংশ জমিতে তিনি বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করছেন। কিন্তু প্রতিবেশীকে ব্যবহার করে রতন তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে জটিল পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। এমদাদুল হক বলেন, জমিসংক্রান্ত তিনটি মামলায় তাকে দীর্ঘদিন ধরে চরম হেনস্থা করা হচ্ছে।

আবুল কালাম অভিযোগ করেন, মিথ্যা মামলার পাশাপাশি বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জু তার শার্টের কলার ধরে মারধর করেন। নূর উদ্দিন জানান, জমি বিক্রি করে রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হলেও এখনো তিনি ৮০ হাজার টাকা বুঝে পাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সামান্য মতবিরোধ হলেই রতন ও মঞ্জু বিভিন্নভাবে মামলা দিয়ে মানুষকে জিম্মি করে রাখেন।

অভিযোগের বিষয়ে খায়রুল ইসলাম রতন ও তাঁর ভাই মেহেদী হাসান মঞ্জু বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। যারা অভিযোগ তুলছে, সবার সঙ্গেই আমাদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে।”

এ বিষয়ে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সানজিদা রহমান বলেন, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য (০)





image

ঈদে স্বস্তিতে ঘরে ফিরছে লালমনিরহাটের মানুষ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে নারীর টান...

image

রাতভর তীব্র যানজট, সকালে বৃষ্টি ঈদ ছুটির দুদিন শেষ সড়কেই

নিউজ ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়া...

image

লালমনিরহাটে ক্ষুদে ফুটবল নারী টিমের সাফল্য কামনা করলেন ত্...

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার টেপ...

image

নড়াইলের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে যেয়ে জীবন দিল ২৬ বছরে...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নে...

image

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে রংপুরে হাইওয়ে ও টার্মিনালে কড়া নজরদা...

রংপুর ব্যুরো : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রংপুরে সার্বিক...

  • company_logo