নওগাঁ প্রতিনিধিঃ জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তম হাট হচ্ছে রাণীনগরের কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় থাকা আবাদপুকুর হাট। প্রশাসনের যোগসাজসে দীর্ঘদিন যাবত হাটটির খাজনা আদায়ের নামে পুকুর চুরি করে আসছে যুবলীগ নেতারা। বছরের পর বছর যুবলীগের দখলে থাকা হাটটিতে চলা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নাকাল হয়ে পড়েছে ক্রেতা-বিক্রেতারা। অপরদিকে পরিকল্পিত ভাবে খাস আদায় করায় প্রায় অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে সরকার।শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগ পর্যন্ত গরু ও ছাগলের খাজনা দ্বিগুন ও দুই পক্ষের কাছ থেকেই খাজনা আদায় করাসহ নানা অনিয়মই ছিলো এই হাটের নিয়ম। কিন্তু বর্তমানে হাটে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও মানা হচ্ছে না অন্যান্য সরকারি নিয়ম। গরু ও ছাগলের খাজনা আদায়ের টাকার অংক প্রদেয় ক্রেতার রশিদ বইয়ের পাতায় লেখা হচ্ছে না।
অনুমোদিত টোল আদায়ের তালিকা টিন অথবা কাঠের বোর্ড অথবা ডিজিটাল ব্যানার বা ঐ জাতীয় বোর্ডে স্পষ্ট অক্ষরে লিখে হাট-বাজারের প্রকাশ্য জায়গায় প্রদর্শন করতে হবে। টোল চার্ট প্রকাশ্যভাবে প্রদর্শন করা না হলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে জনসাধারণকে প্রতারণার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন,২০০৯ ও সরকারি আদেশ অমান্যের জন্য দন্ডবিধিসহ উক্ত ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন-বিধি মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে মর্মে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে আবাদপুকুর হাটে তার কোন প্রয়োগ নেই। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা, সর্বশেষ গত ১৪২৯সনে (২০২২খ্রি:) প্রকাশ্যে খোলা ডাকের মাধ্যমে হাটটি ভ্যাট-ট্রাক্স ছাড়া ৮০লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা হয়েছিলো।
এরপর ২০২৩খ্রি: হাটটি খাস আদায়ের আওতায় আনতে তৎকালীন রাজনৈতিক মহলের নির্দেশনা মোতাবেক আবাদপুকুর উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের স্কুল মাঠে পশুর হাট বসতে দিবে না মর্মে একটি হয়রানী মূলক মামলা দায়ের করে। ফলে মামলার যাতাকলে ফেলে হাটটিকে খাস আদায়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়। অপরদিকে খাস আদায়ে বাৎসরিক ইজারা প্রদানের কোন নিয়ম না থাকলেও উপজেলা প্রশাসন তা করে আসছে। আর খাস আদায়ের নামে প্রশাসনের সহযোগিতায় বছরের পর বছর হাটের টাকা হরিলুট করে আসছে কালীগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হেলু মেম্বার ও একডালা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ নামের সিন্ডিকেট।সূত্র আরো জানায় চলতি বাংলা ১৪৩১সনের (২০২৪খ্রি:) জন্য গত বৈশাখ মাসে আবাদপুকুর হাটটি জেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে খাস আদায় কমিটির সদস্যদের উপস্থিতি ছাড়াই সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কমিটির সভাপতি উম্মে তাবাসসুম অবৈধ ভাবে গোপনে নামমাত্র খোলা ডাকের মাধ্যমে ইজারা প্রদান করেন।
দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট যুবলীগ নেতা হেলু মেম্বার গংদের কাছে প্রতি সপ্তাহে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ৩লাখ (৫২সপ্তাহ) টাকার বিনিময়ে হাটের খাস আদায়ের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। যে সিন্ডিকেটটি কৌশল করে বছরের পর বছর রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছাঁয়ায় আবাদপুকুর হাটের ইজারা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিটি পণ্যের নির্ধারিত হারের চেয়ে দ্বিগুন টাকা খাজনা হিসেবে আদায় করে আসছিলো হেলু সিন্ডিকেটটি।হাটের খাজনা আদায় দলের প্রধান কালীগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি হেলু মেম্বার বলেন বর্তমানে আমরা সরকারি সকল নিয়ম মেনেই খাজনা আদায় করছি। আর খাজনা আদায়ের মূল্য তালিকা হাটে স্থাপন করার দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের।কালীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব চাঁন জানান রাজনৈতিক ছত্রছাঁয়ায় উপজেলা প্রশাসন কৌশলে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হেলু মেম্বার গং এর সঙ্গে আঁতাত করে হাটের টাকা হরিলুট করে আসছে।
এবার হাটের খাস আদায়ের ক্ষেত্রে কোন নিয়মই মানা হয়নি এবং মানা হচ্ছে না। চলতি বছর খাস আদায়ের অজুহাতে সরকারকে আনুমানিক অর্ধকোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হয়েছে।আমি দ্রæত প্রহসনের খাস আদায়ের এই ইজারা বাতিল করে নিয়মানুসারে নতুন করে ইজারা প্রদানের দাবী জানাচ্ছি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাইমেনা শারমীন বলেন বর্তমানে খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে হাটে অনেকটাই নিয়ম মানা হচ্ছে। প্রদেয় খাজনার পরিমাণ রশিদ বইয়ের পাতায় অবশ্যই লিখে দিতে হবে। এছাড়া হাটে যদি সরকারি কোন নিয়ম সঠিক ভাবে মানা না হয় তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য (০)