রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে ৪জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।শিশুর পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ চিকিৎসার অবহেলার কারণে রংপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২৪ঘন্টার ব্যবধানে ৪ জন নবজাতকের মৃত্যুর হয়েছে।গতকাল শুক্রবার (২৩ আগস্ট)রাত সাড়ে ১১টার নগরীর বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় বেতার সংলগ্ন অবস্থিত রংপুর নবজাতক শিশু ও প্রসুতি সেবা ক্লিনিকে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।রাতে হাসপাতালে বিক্ষোভ করে নবজাতকের পরিবার ও স্বজনরা।মারা যাওয়া নবজাতকদের বয়স ৪ থেকে ১২ দিন। অভিযোগ উঠেছে, চিকিৎসকের অবহেলার কারণে শিশু মৃত্যুর এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করে সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবিতে।আজ শনিবার (২৪আগস্ট)সকালে শিশু মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই হাসপাতালের সহকারী ম্যানেজার আজিজুল ইসলাম। মারা যাওয়া নবজাতক শিশুদের বয়স ৪ থেকে ১২ দিন বলে জানান তিনি।অভিযোগ উঠেছে, রংপুর নবজাতক শিশু ও প্রসুতি সেবা হাসপাতালের চিকিৎসা জনিত অবহেলার কারণে দুইদিনে চার নবজাতকের মৃত্যু হলেও এর দায় এড়িয়ে উল্টো ব্যবসায়িক মনোভাব দেখায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
অসহায় পরিবারগুলোকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার টাকার রশিদ হাতে দিয়ে বিল পরিশোধের চাপ দিতে থাকেন তারা।এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা বাঁধে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের। বিষয়টি জানাজানি হলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সংবাদকর্মীরা সেখানে যান। নিহত নবজাতক শিশুর পরিবার সুত্রে জানা যায়, শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে কোন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখতে আসেননি। প্রয়োজন মাফিক কোন চিকিৎসা সেবা দিতে পারেন নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বরং শিশু মারা যাওয়ার পরেও টাকার লোভে এনআইসিইউ তে রেখে বিল বাড়ায়। পরে অভিভাবকদের চাপাচাপির কারণে মারা যাওয়ার বিষয়টি শিকার করেন। চিকিৎসা জনিত অবহেলার কারণে বাচ্চা মারা গেলেও তাদের কোনো অনুসুচনা নাই উল্টো হাজার হাজার টাকার স্লিপ ধরিয়ে দিয়ে বিল পরিশোধের চাপ দিতে থাকে কর্তৃপক্ষ।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান,নবজাতক শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখতে আসেননি। প্রয়োজন মাফিক কোনো চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।বরং শিশু মারা যাওয়ার পরেও টাকার লোভে এনআইসিইউতে রেখে বিল বাড়ানো হয়েছে।
পরে অভিভাবকদের চাপাচাপির কারণে মারা যাওয়ার বিষয়টি শিকার করে।নবজাতকের অভিভাবক আশিকুর রহমান আশিক জানান,কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয় তার স্ত্রীকে।পরে মেডিকেলে সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।সন্তান জন্ম নেওয়ার পরপরই চিকিৎসকরা এনআইসিইউতে নিতে বলে।কিন্তু মেডিকেলের এনআইসিইউতে সিট না থাকায় এক দালাল তার সন্তানকে নবজাতক শিশু ও প্রসূতি সেবা হাসপাতালে ভর্তি করাতে প্রলুব্ধ করেন।পরে সন্তানকে সুস্থ করতে এই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তির চারদিন হলেও কোনো রকম বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেলেনি। ভালো নার্সও পাওয়া যায়নি এখানে। আয়ারাই নার্সের কাজ করেন। চিকিৎসকের আসবে বললে।এভাবে চারদিন অতিবাহিত হলেও চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায়নি।
এ ভাবে আমার সন্তানকে তারা মেরেই ফেললো। আমি এই হাসপাতালের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।একই অভিযোগ অন্য ৩জন নবজাতক শিশুর অভিভাবকদেরও।তারা বলেন আমাদের শিশু এভাবেই মেরে ফেলছে।এসব হত্যা কান্ডের বিচার দাবি করেন তারা্ও ।অভিভাবকরা দাবি যাদের তত্ত্বাবধায়নে এসব নবজাতকের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা ছিল, তাদের কেউ হাসপাতালে ছিল না।তবে এ ঘটনায় হাসপাতালের কোন কমরত চিকিৎসক না থাকায় কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।রংপুর নবজাতক শিশু ও প্রসুতি সেবা হাসপাতালের সহকারী ব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম জানান,গত বৃহস্পতিবার রাতে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়।এরপর শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আরও তিন নবজাতক শিশু মারা যায়।কিন্তু আমার জানা মতে চিকিৎসার কোনো কমতি হয়নি।তিনি বলেন বিভিন্ন সমস্যায় মারা যেতে পারে।
মন্তব্য (০)