• স্বাস্থ্য

বন্যার পানি কমতে শুরু করায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ

  • স্বাস্থ্য

ফাইল ছবি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটলেও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গত দু'দিন আগ থেকে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কমে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়াতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। পানি কমায় নতুন করে কয়েকটি জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

যার ফলে ব্রহ্মপুত্র,দুধকুমার আর ধরলা অববাহিকার উঁচু চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষজন নিজেদের বসতভিটায় ফিরতে শুরু করেছেন। তবে নিঁচু চরগুলোর বসতভিটার চারপাশে এখনো বন্যার পানি রয়েছে।এসব এলাকায় এখনো যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা ও কলা গাছের ভেলা। 

বন্যা কবলিত হওয়ায় জেলায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঠদান এখনো বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে, পাট,আমন বীজতলা ও পটলের ক্ষেতসহ ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। 

সরকারিভাবে দুই সপ্তাহ ধরে নিম্মাঞ্চলের ৫৫ ইউনিয়নের- ৪ শতাধিক গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করলেও,বেসরকারি হিসেব বলছে এ সংখ্যা আড়াই লাখেরও অধিক। 

বুধবার সকালে সরেজমিনে সদর,উলিপুর ও চিলমারী উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে দেখা যায়,পানি কমতে থাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে এখনো অনেক নিচু অঞ্চলের বসত-বাড়ি থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি নামেনি। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছেন মানুষজন। বিশেষ করে স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বানভাসীরা। এসব এলাকায় মানুষজনের মধ্যে হাত পায়ে সাদা ঘা,চুলকানি,জ্বর ও পাতলা পায়খানাসহ দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। টিউবওয়েল ও সৌচাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় লোকজন খোলা স্থানে সারছেন প্রয়োজনীয় কাজ । সঠিক পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা না থাকার কারণে সব থেকে বিপাকে পড়েছেন নারী ও কিশোরীরা। এছাড়াও নদ-নদীগুলোর পানি কমায় নতুন করে দেখা দিচ্ছে নদী ভাঙন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত থাকলেও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে তা অপর্যাপ্ত । বন্যাকবলিত এসব এলাকায় গো-খাদ্য, ঔষুধ ও বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে পড়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা।

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জেলায় ও ভারতের উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না থাকায় জেলার প্রধান সব নদ-নদীর পানি গত ৩ তিন ধরে ধীরগতিতে কমতে শুরু করছে। যার ফলে জেলার উঁচু চরগুলোতে বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছে। 

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, বানভাসীদের কষ্ট লাঘবের জন্য ৯ উপজেলায় ৬০৯ মেট্রিক টন চাল, ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ও ২৫,৯৭০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে বানভাসীদের মাঝে যা বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জরুরি মূর্হুতে যেখানেই প্রয়োজন, সেখানে আমরা ত্রান দিচ্ছি।

মন্তব্য (০)





image

ডেঙ্গুতে আরও তিনজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮

নিউজ ডেস্ক : দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনজ...

image

‎গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু

নিউজ ডেস্কঃ সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় ...

image

‎জ্বর হলেই অ্যান্টিবায়োটিক না খাওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

নিউজ ডেস্কঃ দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় সাধারণ জ্বর ও ...

image

‎৫ বছরের মধ্যে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য সরকারের:...

নিউজ ডেস্কঃ সরকার আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থ...

image

ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু করবে সরকার: স্বা...

নিউজ ডেস্কঃ প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণ মানুষের রোগ শনাক্ত করতে ...

  • company_logo