• সমগ্র বাংলা

তিস্তার ভাঙনে শতাধিক পরিবার

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে তিস্তার পানি বৃদ্ধি।এর ফলে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন। তিস্তার ভাঙনের প্রায় দেড়শতাধিক পরিবার হুমকির মুখে পড়ছে।ভাঙ্গনে পড়ছে রাস্তাঘাট,বসতবাড়ি,বাসসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

তিস্তা্ নদীর ভাঙ্গনে গংগাচড়া উপজেলার প্রায় ৫টি ইউনিয়নের মানুষ পড়ছে হুমকির মুখে।তথ্য অনুযায়ী ঘরবাড়ি ছাড়ছে প্রায় ৫০ পরিবার।পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে উচু স্থানে।অনেকে রাস্তায় গবাধি পশু ও পরিবার নিয়ে বাস করছেন।

তথ্য অনুযায়ী গংগাচড়া উপজেলার মর্নেয়া ইউনিয়নের নিম্নাচঞ্চল ও চরের আলফাজটারী, আনছারেরটারী, নরশিং মধ্যপাড়া, হাসানটারী, আলমারবাজার,গজঘণ্টা ইউনিয়নের নিলারপাড়া, আলালচর, ছালাপাকচর, গাওছোয়া, লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ,পশ্চিম ও পুর্ব ইচলী, বাগেরহাট, কেল্লারপাড়, কোলকোন্দ ইউনিয়নের বিনবিনা, চিলাখালচর, মটুকপুরচর, নোহালী ইউনিয়নের মিনারবাজার, নোহালীচর, বৈরাতীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভাঙন।ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসত বাড়ি, গাছপালা, জমির ফসল।

অন্যদিকে ভেঙে পড়েছে বিদ্যুৎ খুঁটি। পানি বৃদ্ধিতে পুকুর, জলাশয় ও মৎস্য খামারের মাছ ভেসে যায়, নষ্ট হয় চাষকৃত বিভিন্ন ফসল।এখন পানি কমানোর সাথে ভাঙনে দিশেহারা পরিবারগুলো।এ ফলে তিস্তার পানিবন্দি ও ভাঙনের খেলায় সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছে পরিবারগুলো।

সরেজমিনে শনিবার মর্নেয়া চরের আলফাজটারী গেলে দেখা যায়, শাফিকুল, আজিজুল, ওয়াহাব, ছামাদ, মোরসেদুল, আবেদ আলী, আব্দুল হাকিম, হামিদ, হালিম, রহিম, জববার, মতিন, মতিয়ার, জলিল, মজমুল, আব্দুল করিম, মশিয়ার, ছালাম, আব্দুর রহমান, পছা, শরিফুল, ছেরাব উদ্দিন, মোশফেকুল, মনির, সিরাজুল, জছির, জলিল, হামিদুলসহ ৫০ পরিবারের বাড়িঘর ভিটেমাটি তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে।

ভাঙনে নিঃস্ব শাফিকুল বাড়ি ভেঙে যাওয়ায় তার পাশে বসে তিস্তার দিকে তাকিয়ে নিরবে কাদছে।তিনি জানান,কোন রকমে ঘরে টিন খুলে নিতে পারলেও অনেক জিনিসপত্র ভেসে গেছে। ভাঙাগড়ায় ভাইয়ের জায়গায় খুলে নেওয়া টিন রেখেছি। কোথায় নুতন করে বাড়ি করবো দিশাপাচ্ছিনা। হাতে নেই তেমন টাকা, দিনমজুরীতে চলে সংসার।

আবেদ আলী বলেন, তার একমাত্র বাড়ির জায়গাটুকু তিস্তায় গেলো। এখন কোথায় বাড়ি করবেন উপায় পাচ্ছেন না। তাছাড়া স্ত্রী রাবেয়ার সন্তান হবার ২৪ দিন হলো তাকে ভালমত থাকতে দিতে পারছেন না ঠিকমত খেতেও দিতে পারছেন না। পাননি সরকারি কোন সাহায্য।

এজারুল, আলমগীর, জানান তাদের এলাকার আরো ৫০ বাড়িসহ আনছারটারীর শতাধিক বাড়ি ভাঙন হুমকির মুখে পড়েছে। আনছারটারীর ছয়ফাল, গফুর, বাচ্চা জানান, তারা ভাঙন থেকে বাঁচতে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের পাইলিং দিচ্ছেন।

মর্নেয়া চরের বয়স্ক আব্দুর রহমান বলেন, এগুলো দেখি কি করেন। এলাকার অনেক বাড়ি, আবাদি জমি, গাছপালা, বিদ্যুৎ খুঁটি সব ভেঙে গেলেও কেউ দেখতে আসে নাই। ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ খুঁটি বিদ্যুতের লোক বললেও সেগুলো সরিয়ে নিচ্ছেনা। তিনি বাড়ি ভাঙা পরিবারগুলো সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানান।

মর্নেয়া ইউপি চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান জানান, তার ইউনিয়নে তিস্তায় ৫০ পরিবারের বেশী ভেঙে গেছে। কিছু পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে, বাকীদের দেওয়া হবে। তালিকা করা হচ্ছে।

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মোঃ খোরশেদ আলম জানান, ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ খুঁটি সরে নেওয়ার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাহিদ তামান্না বলেন, ভাঙন কবলিত পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। নুতন করে যাদের বাড়ি ভেঙেছে তাদের দেওয়া হবে। ইউপি চেয়ারম্যানকে তালিকা করতে বলা হয়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম বলেন, লোল্যান্ড এলাকায় ভাঙন রোধে সরকারি কোন বরাদ্দ নেই। তবে ভাঙনে রোধে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য (০)





image

ঈদে স্বস্তিতে ঘরে ফিরছে লালমনিরহাটের মানুষ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি :পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপন করতে নারীর টান...

image

রাতভর তীব্র যানজট, সকালে বৃষ্টি ঈদ ছুটির দুদিন শেষ সড়কেই

নিউজ ডেস্ক : আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়া...

image

লালমনিরহাটে ক্ষুদে ফুটবল নারী টিমের সাফল্য কামনা করলেন ত্...

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার টেপ...

image

নড়াইলের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে যেয়ে জীবন দিল ২৬ বছরে...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নে...

image

ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে রংপুরে হাইওয়ে ও টার্মিনালে কড়া নজরদা...

রংপুর ব্যুরো : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে রংপুরে সার্বিক...

  • company_logo