দিনাজপুর প্রতিনিধি: মাত্র পাঁচ মিনিটের কাল কালবৈশাখীর ছোবলে আজ সারাদিন এক প্রকার অচলাবস্থায় কেটেছে দিনাজপুর জীবন যাত্রা। গতকাল মধ্যরাতে দিনাজপুর সদরসহ আশপাশের উপর দিয়ে বয়ে গেছে কাল কালবৈশাখী ঝড় বৃষ্টি। এতে হাজার খানেক ঘরবাড়ীর তছনছ হয়ে গেছে। ডালপালাসহ মোওসুমী ফলগাছ উপড়ে পড়েছে। উল্টে পড়েছে শতাধিক বিদ্যুৎ পিলার। বিদ্যুৎ বিচ্ছন্ন অবস্হায় অতিবাহিত করতে হয়েছে সারাটা দিন। একজন গুরুত্বরসহ আহত হয়েছে জনা বিশেক নারী পুরুষ শিশু। আর্থিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি নিরপন করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান , দিনাজপুরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পাঁচ মিনিট স্হায়ী কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতা ছিল ৫৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিতে। এসময় ক্ষুদ্র আকৃতির শিলার সাথে ১২ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার দিনগত মধ্যরাত পৌনে ২ টার দিকে জেলা সদরের উপর দিয়ে প্রায় পাঁচ মিনিট স্হায়ী ওই কাল কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের ঝাপটায় হাজার খানেক ঘরবাড়ী ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছে। উড়ে গেছে খড় এবং টিনের চালাঘর। ডালপালা ভাঙ্গাসহ উপড়ে পড়েছে পাঁচ শতাধিক ছোটবড় গাছ। বাতাসের ঝাপটা এবং গাছপালা পড়ে প্রায় শতাধিক বৈদ্যুতিক পিলার উল্টে পড়েছে। তার ছিড়ে মধ্যরাতে ঝড়ের সময় থেকে আজ সারাদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্হায় ছিল পুরো এলাকা।
নেসকোর তত্বাবধাক প্রকৌশলী মোসাদ্দেক কবির জানান, মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ কর্মীরা সংযোগ স্হাপনে সারাদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে সন্ধ্যার আগে জাতীয় গ্রীডের সাথে সংযোগ স্হাপনে সক্ষম হয়েছে। সন্ধ্যা পর থেকে লাইন সচলে সক্ষম কিছুকিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করেছেন তারা। তবে বেশীর ভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ করা যায়নি। অন্ধকারে কাটাতে হচ্ছে বেশীর ভাগ গ্রাহককে।
এদিকে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারনে মোবাইল ফোনে সংযোগ পেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে ব্যবহারকারিদের। নেটওয়ার্ক টাওয়ারে আইপিএস ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে অচল হয়ে পড়ার কারনে ভয়েস কোলের পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ হয়ে পড়েছিল। এতে দুর্ভোগ বাড়ে ইন্টারনেট ব্যবজারকারিদের।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ নির্ভর কলকারখানায় উৎপাদন ব্যহত হওয়া ছাড়াও কাজ মিলেনি শ্রমিকদের।
পাশাপাশি ঝড়ে গাছের ডালপালা ভেঙ্গে এবং গাছ উপড়ে প্রায় কোটি টাকা৷ মৌসুমি ফল আম লিচুর ক্ষতির শিকার হয়েছে বাগান মালিকসহ ফল ব্যবসায়ীরা।
এছাড়া গাছের ডালসহ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্হ ঘরবাড়ীর আঘাতে সরকারি কলেজের নৈশ্য প্রহরি আবু রায়হানকে আশংকাজনক অবস্হায় জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে৷ এছাড়াও ছোটঘাট আঘাতে আহত হয়েছে প্রায় ২০ জনের মত নারী পুরুষ শিশু।
জেলা প্রশাসক শাকিল আহমেদ জানান, ঝড়ের পর পরই পুলিশ সুপার শাহ ইফতার আহমেদসহ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীদের সহায়তায় ভেঙ্গে পড়া গাছ অপসারন করে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্হা সচল রাখতে কাজ করেছেন তারা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্হ এলাকা পরিদর্শন ক্ষয়ক্ষতি নিরপনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্হ পরিবারকে ত্রান সহায়তা দিয়েছেন তারা।
এদিকে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি আজ বিকালে চেহেলগাজী ইউনিয়ন এলাকায় ক্ষতিগ্রস্হ দেড়শত পরিবারের মাঝে শুকনা খাবারের পাশাপাশি ৩০ কেজি করে চাল, ১০ বান্ডিল ঢেউটিন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা বিরতরন করেছেন।
জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আনিছুর রহমান জানান৷ ঝড়ের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ করছেন তারা।
মন্তব্য (০)