• রাজনীতি

দুর্নীতি বন্ধ করতে স্পিকারকে রেজিস্টার চালুর প্রস্তাব দিলেন তাসনিম জারা

  • রাজনীতি

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক :  রাজনৈতিক দলগুলো ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে মনোনয়ন দেয় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়াতে গেলেও নানা পদক্ষেপে হয়রানির শিকার হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তাসনিম জারা বলেন, আক্ষেপ করার জন্য সাধারণ মানুষ রয়েছেন। স্পিকারের কাজ শুধু আক্ষেপ করা নয়; নিজের অবস্থান থেকে তিনি কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন তিনি।

পোস্টে তাসনিম জারা বলেন, স্পিকারের বক্তব্যে ভালো কিছু করার সদিচ্ছা রয়েছে বলে মনে হয়েছে। এ কারণে সংসদ সদস্যদের জবাবদিহি বাড়াতে তাঁর করণীয় সম্পর্কে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেছেন তিনি।

তাসনিম জারার ভাষ্য, জাতীয় সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কোটিপতি। ব্যবসা থাকা বা কোটিপতি হওয়া দোষের নয়, তবে তাঁদের সম্পদের উৎস বৈধ কি না, তা জানা প্রয়োজন।

তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দামি গাড়ি, ঘড়ি ও নতুন ফ্ল্যাটের মালিক হন। এসবের বিষয়ে জানতে চাইলে উপহার পাওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু কে, কী কারণে উপহার দিয়েছেন, তা জানার সুযোগ নেই। কোনো ব্যবসায়ী সংসদ সদস্যকে গাড়ি উপহার দিলে তার বিনিময়ে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ ধরনের পরিস্থিতি ঠেকাতে সংসদ সদস্যদের সম্পদ, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব, উপহার এবং অন্যের অর্থায়নে বিদেশ সফরের তথ্য সংরক্ষণ ও প্রকাশের জন্য একটি রেজিস্টার চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন তাসনিম জারা। তাঁর মতে, এসব তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করে অনলাইনে প্রকাশ করা উচিত।

তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় সংসদ সদস্যদের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু পাঁচ বছরে একবার দেওয়া এসব তথ্যও যথাযথভাবে যাচাই করা হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও নির্বাচন কমিশন অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

যুক্তরাজ্যের উদাহরণ টেনে তাসনিম জারা বলেন, সেখানে সংসদ সদস্যদের উপহার, দাওয়াত ও বিদেশ সফরের মতো বিষয় নির্দিষ্ট রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ করতে হয় এবং নিয়মিত তা প্রকাশ করা হয়। তাঁর উল্লেখ করা উদাহরণ অনুযায়ী, এক সংসদ সদস্য বিদেশি সরকারের অর্থায়নে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটি কাটানোর তথ্য রেজিস্টারে না লেখায় ধরা পড়েন এবং পরে ৩০ দিনের জন্য সাময়িক বরখাস্ত হন।

তাসনিম জারা বলেন, এমন রেজিস্টার চালু করলেই সব দুর্নীতি বন্ধ হবে, এমন দাবি তিনি করছেন না। তবে এতে অনিয়ম করা কঠিন হবে এবং কোনো সংসদ সদস্য তথ্য গোপন করলে তা প্রমাণ করা সহজ হবে।

স্পিকারের করণীয় সম্পর্কে তিনি বলেন, সংসদের বিধিবিধানসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হিসেবে স্পিকার এ বিষয়ে নিয়ম প্রস্তাব করতে পারেন। সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমেও তথ্য সংরক্ষণ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশের ব্যবস্থা করা সম্ভব। এ ছাড়া তিনি চাইলে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে তাসনিম জারা আশা প্রকাশ করেন, তিনি নিজের অবস্থান কাজে লাগিয়ে কার্যকর পরিবর্তন আনবেন।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ভালো মানুষের নির্বাচনে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই এবং সংসদে রাজনীতি করার উপযুক্ত পরিবেশও তৈরি করা যায়নি। তবে ভবিষ্যতে দেশে এমন পরিস্থিতি থাকবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্তব্য (০)





  • company_logo