• সমগ্র বাংলা

নওগাঁর খোলাবাজারে অগ্রিম বরাদ্দের সার আসায় স্বস্তিতে কৃষকরা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর ডিলার পর্যায়ে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দের সার অগ্রিম ডিলারদের মাঝে প্রদান করা হয়েছে। যার কারণে বর্তমানে ডিলার পর্যায়ে পর্যাপ্ত সারের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই সার কিনে জমিতে দিতে পারছেন। চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় যেন সারের কোন কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি না হয় সেই কারণে চাহিদা মাফিক সারের বরাদ্দ জেলায় অগ্রিম নিয়ে আসা হয়েছে।

অপরদিকে জেলার কোন সার ডিলার যেন বেশি দামে সার বিক্রি করতে না পারেন সেই লক্ষ্যে জেলাজুড়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে এবং সারের বাজার প্রতিনিয়তই কঠোর ভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে সমন্বয়ের ভিত্তিতে এক ইউনিয়ন থেকে অন্য ইউনিয়নগুলোতে চাহিদার ভিত্তিতে সার সরবরাহ করা হচ্ছে এমন সরবরাহের ঘটনাকে অনেকেই সার পাচার বলে অপপ্রচার করার চেস্টা করছেন বলেও জানান জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো: মনজুর হোসেন।

জেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে চলতি আমন মৌসুমে জেলায় ১লাখ ৯৬হাজার হেক্টর জমিতে আমনধানের চাষ করা হয়েছে। বর্তমানে জমিতে আমনধানের গাছ মাঝারি আকার ধারন করেছে। তাই বর্তমানে জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন। গত জুলাই মাসে নওগাঁর জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিলো ৬৬৭৭ মেট্রিক টন, টিএসপি ১২৮৯ মেট্রিক টন, এমওপি ৩০৪১ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩৯১৬ মেট্রিক টন। আগস্ট মাসে বরাদ্দ ছিলো ইউরিয়া ৯৯৯১ মেট্রিক টন, টিএসপি ১০৯৭ মেট্রিক টন, এমওপি ২৭৭৫ মেট্রিক টন ও ডিএপি ২৮৫৩ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ইউরিয়া ৬৩৬৯ মেট্রিক টন, টিএসপি ৭৬৬ মেট্রিক টন, এমওপি ১৯৯৩ মেট্রিক টন ও ডিএপি সার ২৩১২ মেট্রিক টন। সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ ইতোমধ্যেই জেলার সার ডিলারদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। ডিলাররা যার যার বরাদ্দের সার উত্তোলন করে বাজারে বিক্রি শুরু করেছেন। যার কারণে বর্তমানে নওগাঁর ডিলার পর্যায়ে সারের কোন সংকট নেই বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতিবস্তা (৫০কেজি) ইউরিয়া সার বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০টাকায়, ডিএপি ১০৫০টাকায়, টিএসপি ১৩৫০টাকায় ও এমওপি ১০০০টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকদের জমিতে সার প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্ব স্ব এলাকার উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসারে সার ছিটানো উচিত। মৃত্তিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে জমিতে প্রয়োজন মাফিক সার ছিটানোর কোন বিকল্প নেই। বর্তমানে দেশের কৃষকরা জমিতে জৈব সার প্রয়োগ না করে বেশি বেশি রাসায়নিক সার ব্যবহার করছেন। যার কারণে জমিতে অতিরিক্ত পরিমাণ রাসায়নিক সার দেওয়ায় মাটির স্বাস্থ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষিত হচ্ছে তেমনি ভাবে বাজারেও সারের কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই জমিতে সার ছিটানোর বিষয়ে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পরামর্শ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার সিংগারপাড়ার আদর্শ কৃষক মোস্তাক হোসেন জানান বর্তমানে ডিলারদের দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার পাওয়া যাচ্ছে। স্লিপের মাধ্যমে আমরা ন্যায্য দামে সার পাচ্ছি। সবার আগে কৃষকদের সচেতন হতে হবে। প্রয়োজন নেই তবুও আমরা কৃষকরা সার পাবো কি পাবো না এই গুজবে কান দিয়ে প্রয়োজনের চাইতে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করছি। এছাড়া প্রতিনিয়ত পুকুরগুলোতে সারের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু পুকুরে ব্যবহৃত সারের কোন আলাদা বরাদ্দ নেই। ফলে প্রতি মৌসুমে সারের কিছুটা অতিরিক্ত চাহিদা বাড়ছে। তাই পুকুরগুলোতে ব্যবহৃত সারের তালিকা নিয়ে আলাদা করে বরাদ্দ প্রদান করা হলে কৃষি জমির জন্য বরাদ্দকৃত সারের উপর চাপ কমবে এবং সারের কোন কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হবে না। তাই সরকারের এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কোন বিকল্প নেই।

সদর উপজেলার চকউজির গ্রামের কৃষক এবাদুল প্রামাণিক জানান আমরা কৃষকরা প্রতিযোগিতা করে জমিতে সার ছিটাই। আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের নয় কীটনাশকের দোকানদারের পরামর্শে জমিতে সার ও কীটনাশক দিয়ে থাকি যা আমাদের জমির জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। অপরদিকে কৃষকদের খরচও বেড়ে যায়। জমিতে অতিরিক্ত টিএসপি সার দেওয়ায় জমিতে এতো পরিমাণ ফসফরাসের মজুত হয়েছে যা প্রয়োজনের চাইতে অনেক অনেক গুন বেশি। কিন্তু আমরা কৃষকরা মৃত্তিকা পরীক্ষা না করেই প্রতিযোগিতা করে জমিতে সার দিয়ে আসছি যার কারণে ব্যাপক ভাবে জমির স্বাস্থ্য নষ্ট হচ্ছে। দিন যতই যাচ্ছে ততই জমিতে অতিরিক্ত সার আর কীটনাশক দেওয়ার কারণে মাটি তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। এমন খারাপ অভ্যাস থেকে আমাদের কৃষকদের দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশক না দিতে কৃষকদের প্রতি অনুরোধ জানান এই কৃষক।

জেলার বদলগাছি উপজেলার কোলা-ভান্ডারপুর এলাকার কৃষক রমিজ উদ্দিন জানান বর্তমানে তারা ডিলারদের দোকানে সরকারের বেধে দেওয়া দামেই চাহিদা মাফিক সার পাচ্ছেন। তবে সার নিয়ে যে সকল ব্যক্তিরা অযথায় গুজব ছড়ানোর চেস্টা করছেন এবং যে সকল দুষ্ট খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের জিম্মি করে দাম বেশি নেওয়ার আশায় অবৈধ ভাবে সার মজুত করছেন তাদেরকে খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দেশে সার নিয়ে আর কেউ গুজব সৃষ্টির সুযোগ পাবে না। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে থাকা কৃষি কর্মকর্তাদেরও আরো সক্রিয় হতে হবে। তাদেরকে স্বজনপ্রীতির ধারা থেকে বেরিয়ে আসার অনুরোধ জানান এই কৃষক।

রাণীনগর উপজেলা বিএডিসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: রেজাউল ইসলাম জানান প্রতিনিয়তই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সারের বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। যার কারণে বেশি দামে সার বিক্রির কোন সুযোগ নেই। কোন সার ব্যবসায়ী কৃষকদের যেন না ঠকান সেই বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে সকল সদস্যদের কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে গুজবহীন পরিবেশে সার বিতরণের জন্য তিনি কৃষক থেকে শুরু করে প্রতিটি মানুষের কাছ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

রাণীনগর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আব্দুস সাত্তার শাহ জানান, বাজারে যখন ক্রেতারা কোন একটি নির্দিষ্ট পণ্য প্রয়োজনের চাইতে বেশি কিনতে শুরু করেন তখন সেই পণ্যের সরবরাহ কমে যায় এবং কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে ক্রেতারা মনে করেন। তেমনি ভাবে কৃষকরা ভবিষ্যতের কথা ভেবে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করার কারণে এবং মাঝে মধ্যে ডিপোগুলো থেকে সার সরবরাহের ক্রটির কারণে কিছুটা বিলম্ব হয় এতে কৃষকরা মনে করেন দেশে সারের সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে কৃষকরা বাড়িতে কীটনাশক মজুত করেন না বলে বাজারে কোন কীটনাশকের সংকট হয় না। কৃষকদের সচেতন হয়ে এমন খারাপ বিভিন্ন অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নিজে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিবো এবং অন্যদের পরামর্শ নিয়ে জমির প্রয়োজন অনুসারে সার ও কীটনাশক প্রয়োগে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এই ডিলার।


রাণীনগর উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা শশাঙ্ক কুমার জানান সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ধানের জমির পরিমাণ নির্ধারণ করে এবং কোন জমিতে কতটুকু সারের প্রয়োজন সেই জরিপ করার পর স্লিপের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে। তারা মাঠ পর্যায়ে সব সময় কৃষকদের সচেতন করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। তবুও কিছু কিছু কৃষক গুজবে কান দিয়ে বাড়িতে অতিরিক্ত সার মজুত করার চেস্টা করছেন। জমিতে সার বেশি দিলেই ফসল বেশি হবে এমন ধারণা থেকে কৃষকদের বের করে আনতে এবং কৃষি বিষয়ে যে কোন পরামর্শ কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌছে দিতে তারা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে এই কর্মকর্তা জানান।

জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো: মনজুর হোসেন জানান জেলায় কতটুকু সারের প্রয়োজন সেই মাফিক চাহিদাপত্র তৈরি করে সরকারের কাছে প্রেরণ করা হয়। চলতি আমনধান মৌসুমে জেলায় চাহিদা মাফিক সারের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সারের বরাদ্দ প্রতি মাসের চাহিদা অনুসারে পাওয়া যায়। নওগাঁয় যেন সারের কোন সংকটের সৃষ্টি না হয় সেই লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসের বরাদ্দ আগেই নিয়ে এসে ডিলারদের মাঝে সার প্রদান করা হয়েছে। তবে সারের ব্যবহার নিয়ে কৃষকদের সচেতন হওয়ার কোন বিকল্প নেই। পরিবেশকে বাঁচিয়ে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে কৃষকদের জৈব সার ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান আগের যুগের কৃষকরা বাড়িতে থাকা গৃহপালিত পশুর গোবর থেকে তৈরি জৈব সার বেশি বেশি জমিতে ব্যবহার করতেন। ফলে সেই উৎপাদিত ফসল ছিলো বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যবান্ধব। জৈব সার ব্যবহারে পরিবেশেরও কোন ক্ষতি হয় না। রাসায়নিক সার ব্যবহার করতে হবে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুসারে সীমিত পরিমাণে। তাহলে দেশের কৃষি আরো সমৃদ্ধশালী হওয়ার পাশাপাশি মাটির স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং দীর্ঘদিন যাবত সুস্থ্য মাটি থেকে কৃষকরা ফসলের ফলনও ভালো পাবেন। তাই কৃষকসহ সকলকে সার নিয়ে কোন গুজবে কান না দিতে এবং কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সরকার যে সকল সার আমদানী করে কৃষকদের কাছে স্বল্পমূল্যে সরবরাহ করছেন সেই সকল সার প্রয়োজন মাফিক ব্যবহার করে পরিবেশকে রক্ষা করে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনের অনুরোধ জানিয়েছেন এই কৃষি কর্মকর্তা।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান জেলার প্রতিটি উপজেলা প্রশাসনকে কঠোর ভাবে সারের বাজার মনিটরিং করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই উপজেলা কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলা প্রশাসন অবৈধ ভাবে সার মজুতকারী ও বেশি দামে সার বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রেখেছে। জেলার বিভিন্ন গ্রাম এলাকার কিছু অতিলোভী খুচরা সার বিক্রেতারা কৃষকদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতেও এই ধরণের অভিযান চলমান থাকবে। সার নিয়ে কোন অরাজকতা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি কঠোর হুশিয়ারী প্রদান করেন। এছাড়া সার নিয়ে যে কোন অভিযোগ থাকলে জেলাবাসীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।

মন্তব্য (০)





image

চাটমোহরে জমি নিয়ে বিরোধ; ৬ জনকে মিথ্যা মামলায় হয়রানীর অভিযোগ

পাবনা প্রতিনিধি : একটি জমি নিয়ে ৬ জনের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর অভ...

image

মুক্তাগাছায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সর্বস্তরের মানুষ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধা: ‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’—...

image

মাগুরায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ মিছিল

মাগুরা প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিক...

image

গোপালপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ...

image

দিনাজপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সমাবেশ র‍্যালী

দিনাজপুর প্রতিনিধি: বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে দিনাজপুরে বৃষ্টিতে ভিজে...

  • company_logo