• সমগ্র বাংলা

মা‌নিকগ‌ঞ্জে অজ্ঞাত নারীর হত‌্যার রহস‌্য উদঘাটন, ২৪ ঘন্টায় মূল ঘাতক গ্রেফতার

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

মা‌নিকগঞ্জ প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় জ‌মি থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর রক্তাক্ত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। 

হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মো: আফছার (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার আফছার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধান‌কোড়া এলাকার মৈশালোহা গ্রামের মৃত ফয়জুদ্দিনের ছেলে। বর্তমানে সে ঢাকার মিরপুর পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল।

‌সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপু‌রে মা‌নিকগঞ্জ পু‌লিশ সুপার কার্যালয় থে‌কে এক প্রেস বিজ্ঞ‌প্তির মাধ‌্যমে বিষয়‌টি নি‌শ্চিত করা হয়।

জেলা পু‌লিশ মা‌নিকগঞ্জ থে‌কে প্রেস‌ বিজ্ঞপ্তি‌তে জানা‌নো হয়, গত ৩০ আগস্ট সকালে সাটুরিয়া থানাধীন নাহার গার্ডেন সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম সেবা) দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেফতা‌রের নির্দেশ দেন।

এরপর জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মানবেন্দ্র বালো এর তত্ত্বাবধানে এসআই মোঃ হিমেল হোসেনের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল সাটুরিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, নিহত নারী লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮) এর সঙ্গে গ্রেফতার আফছারের দীর্ঘ ১৮ থেকে ১৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের টানাপোড়েন ও বিয়ে সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আফছার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে উঠে এসেছে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট দুপুরে আফছার ঢাকার সেনপাড়া পর্বতার বাসা থেকে একটি ধারালো চাকু সঙ্গে নেন। ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে তিনি ফাতেমাকে নিয়ে ঢাকার বাসা থেকে রওনা হয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সাটুরিয়ার নয়াডঙ্গি বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছান। সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর রাত সাড়ে ৭টার দিকে অন্ধকার নেমে এলে ফাতেমাকে সঙ্গে নিয়ে নাহার গার্ডেনের কাছের একটি নির্জন স্থানে যান।

পুলিশ জানায়, সেখানে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আফছার ফাতেমার পরনের কাপড়ের আঁচল দিয়ে পেছন থেকে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে। পরে তাকে মাটিতে ফেলে গলার ওপর পা দিয়ে চাপ দেন এবং সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে পেটে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই ফাতেমার মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর আফছার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে ঢাকায় তার ভাড়া বাসায় চলে যায়।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান নিশ্চিত করে ডিবি পুলিশ। ৩১ আগস্ট রাত ২টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার পল্লবী থানাধীন বাউনিয়া বাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভাড়া বাসা থেকে আফছারকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত লাইলী বেগম ওরফে ফাতেমা (৫৮) পাবনা সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামীর নাম মো: নুরুল ইসলাম। বর্তমানে সে ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন সেনপাড়া পর্বতা এলাকায় বসবাস করতো।

মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

মন্তব্য (০)





image

পাবনায় নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনা প্রতিনিধিঃ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পাবনায় শিক্ষা...

image

গোপালপুরে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উদ্বোধনী ও সাংস্কৃতিক...

গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: জাতীয় কবি কা...

image

জনবান্ধব কাজে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর: বিমানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিঃ জনগণের উন্নয়ন ও জনবান্ধব কাজ করার লক্ষ্য...

image

সোনারগাঁয়ে পরিবেশগত ক্ষতিসাধনের দায়ে ৭৫ লক্ষ টাকা জরিমানা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার শীলমন্দী...

image

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী পরাগের বিরুদ্ধে পাবনা...

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনা জেলা জাসাস আহ্বায়ক খালেদ হোসেন পরাগের...

  • company_logo