• সমগ্র বাংলা

দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে যন্ত্রাংশ কেনায় কোটি টাকার দুর্নীতিতে দুদকের তদন্ত, ফলাফল অন্তঃসারশূন্যতা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (ডিটিটিসি) প্রশিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতে কেনা তিনটি বিষয়ে মেশিনারী ক্রয় সংক্রান্ত অভিযোগ যাচাই-বাছাই করতে গতকাল রবিবার ৪র্থ দফায় আবারো জব্দকৃত মালামাল যাচাই অনুসন্ধান চালিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের কর্মকর্তারা। কেনাকাটায় কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ অডিটে ধরা পড়লেও শুধু যাচাই বাছাইয়ের চালালো হচ্ছে।  জড়িতদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বরং অভিযোগ মাথায় নিয়ে অন্য জেলায় বদলীতে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তারা।

মেশিনারী কেনায় কোটি টাকার দুর্নীতির বিষয়টি আবারো যাছাই করতে গতকাল রবিবার আরেক দফায় দিনাজপুরের কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) পরিদর্শনসহ ক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দিনাজপুর কার্যালয়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল।

আন্তর্জাতিক মানের  পিএলসি মেশিন ক্রয় না করে মাত্র ২ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল দেশীয় তৈরি মেশিন এবং টেন্ডারে ক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ১০ লাখ টাকা। ডিজিটাল ইনট্রাক্টটিভ বোর্ড ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ক্রয় করে ৮ লাখ হারে ৪ টি বোর্ড ক্রয় মূল্য দেখিয়ে আত্বসাৎ করা করা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা । অপরদিকে গার্মেন্টস ট্রেডের জন্য ফেব্রিক্স মেশিন ক্রয়ে অনিয়ম, টেন্ডারে উল্লেখিত মডেল এবং ব্রান্ড মানা হয়নি। মাত্র ৮০ হাজার টাকায় দেশীয় মেশিন কিনে ক্রয় মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ টাকা। এ ছাড়াও গত ১৭ বছর ধরে দ্বায়িত্ব পালনকারি সময়ে  দিনাজপুর টিটিসিতে ক্রয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৭শ টাকা লোপাট করেছেন অভিযিক্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে তৎকালিন ইলেকট্রিক্যালে ট্রেডের চীফ ইন্সট্রাক্টর বর্তমানে অধ্যক্ষ শেখ রাকিবুল হাসান, বর্তমানে নীলফামারী টিটিসিতে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত সাবেক অধ্যক্ষ মাসুদ রানা, বর্তমানে দিনাজপুরের খানাসামা টিটিসিতে অধ্যক্ষ হিসেবে কর্মরত কম্পিউটার ডিপার্টমেন্টের সাবেক চীফ ইন্সট্রাক্টর নিমাই কুমার দত্তসহ অন্যান্য সহযোগিদের অনিয়ম, দুর্বত্তায়ন ও দুর্নীতির সাথে জড়িত। অডিট রিপোর্ট উঠে উঠেছে কোটি টাকার দুর্নীতির চিত্র। সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে বলা হয়েছে ১ কোটি ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৭শ টাকা। তবে টাকা ফেরত দেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগের বোঝা মাথায় নিয়ে বদলির ছায়ায় বহাল রয়েছেন তারা।

 তবে ৪র্থ দফায় আবারো দিনাজপুরে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রোগ্রামেবল লজিক কন্ট্রোলার (পিএলসি) মেশিন, ডিজিটাল স্মার্ট বোর্ড এবং পোশাক তৈরির স্বয়ংক্রিয় ফ্যাব্রিক মেশিন (এফআইএম) মেশিন ক্রয় সংক্রান্ত নথিপত্রের ফটোকপি গ্রহণ করেন দুদক কর্মকর্তারা।

এর আগে গত ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী যন্ত্রাংশ ক্রয় সংক্রান্ত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করেছিল জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।

প্রথম ধাপে তদন্ত শেষে দুদকের  নিজস্ব ভেরিফাইড পেজে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় ধাপে মেশিনগুলোকে জব্দ দেখানো হয়েছে এবং তৃতীয় ধাপে গত ১০ আগস্ট মেশিন এক্সপার্টগণ পর্যালোচনা করেছে এবং চতুর্থ ধাপে গতকাল ২৩ আগস্ট পিএলসি মেশিন এবং ডিজিটাল ইনট্রাক্টটিভ বোর্ড পর্যালোচনা করেছেন। 

 এবিষয়ে দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। কাজেই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এবিষয় কোন মন্তব্য করা যাবেনা।

মন্তব্য (০)





  • company_logo