• সমগ্র বাংলা

২৪ ঘণ্টার প্রতিশ্রুতির পরই মিলল অনন্ত: রক্তমাখা পোশাকের রহস্য পেরিয়ে বিমানবন্দরে জীবিত উদ্ধার

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি : একদিকে উৎকণ্ঠায় কাঁদছিল একটি পরিবার, অন্যদিকে প্রিয় শিক্ষার্থীকে ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী। চার দিন ধরে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। কারণ, বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর একটি ভবনের ছাদে পাওয়া গিয়েছিল রক্তমাখা জামা, জুতা ও স্কুলের পরিচয়পত্র। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, অনন্তকে ঘিরে প্রতিটি মুহূর্তই হয়ে উঠেছিল উদ্বেগের।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে অনন্তর বাবা সোহাগ মিয়ার সঙ্গে কথা বলেন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। সন্তানের সন্ধানে দিশেহারা বাবাকে তিনি আশ্বস্ত করে বলেছিলেন-ছেলেকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

সেই কথার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এলো স্বস্তির খবর।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাফসিরুল ইসলাম অনন্তকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বিমানবন্দর পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর বিষয়টি গাজীপুর পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান অনন্তর বাবাকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দর এলাকায় যান। পরে অনন্তকে গাজীপুরে নিয়ে আসা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “অনন্তকে সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়াটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। নিখোঁজের পর থেকেই বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। তার অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন। এখন সে কীভাবে বিমানবন্দর এলাকায় পৌঁছাল এবং এই কয়েক দিন কোথায় ছিল-এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা পরিষ্কার করা হবে।”

অনন্তর বাবা সোহাগ মিয়ার কণ্ঠেও তখন স্বস্তির ছাপ। তিনি বলেন, “আমার ছেলেকে পেয়েছি। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এতদিন যারা আমাদের পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন এবং ছেলেকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছেন, সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।”

গত ১৮ আগস্ট দুপুরে কাপাসিয়া উপজেলার বীরউজলী এলাকায় নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী তাফসিরুল ইসলাম অনন্ত। সে ডুমদিয়া গ্রামের সোহাগ রানার ছেলে এবং বীরউজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়ের রোল নম্বর ৩ হওয়া অনন্তকে শিক্ষকরা মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবেই জানেন।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, সেদিন টিফিনের সময় ক্লাস থেকে বের হয়েছিল অনন্ত। টিফিন শেষে অন্য শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ফিরে এলেও সে আর ফেরেনি। বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষকরা প্রথমে বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন। পরে স্থানীয়রাও বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধান করতে থাকেন।

এর মধ্যেই বীরউজলী বাজারের বিদ্যালয়ের কাছাকাছি একটি তিনতলা ভবনের ছাদে রক্তমাখা জামাকাপড়, জুতা ও অনন্তর বিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র পড়ে থাকার খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামতগুলো উদ্ধার করে জব্দ করে।

টোক নয়ন বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামতগুলো উদ্ধার করেন। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি অনন্তর অবস্থান শনাক্তে অনুসন্ধান শুরু করে পুলিশ।

রক্তমাখা পোশাক ও জুতা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ আরও বাড়তে থাকে। পরিবার থেকে বিদ্যালয়-সবখানেই তখন একটাই প্রশ্ন, অনন্ত কোথায়?

শুধু অনন্তর পরিবার নয়, তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবিতে একপর্যায়ে সোচ্চার হয়ে ওঠেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বীরউজলী এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয় থেকে একজন শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে রক্তমাখা জামা, জুতা ও আইডি কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন টোক ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রুকন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান সবুর, লোহাদী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মতিউর রহমান এবং বীরউজলী মডেল একাডেমির প্রধান শিক্ষক বাবু সুনিলচন্দ্র দাস।

তাদের দাবি ছিল একটাই—অনন্তকে জীবিত ও নিরাপদ অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করতে হবে এবং তার নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ বের করতে হবে।

অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো শুক্রবার দুপুরে। বিমানবন্দর এলাকায় অনন্তকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বস্তি ফিরে আসে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে।

তবে স্বস্তির এই মুহূর্তের পাশাপাশি সামনে এসেছে নতুন কিছু প্রশ্ন। কীভাবে অনন্ত বীরউজলী থেকে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় গেল? এই কয়েক দিন সে কোথায় ছিল? তার রক্তমাখা জামা, জুতা ও আইডি কার্ড কীভাবে ওই ভবনের ছাদে গেল?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, অনন্তকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তার নিখোঁজের পুরো ঘটনা নতুন করে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তার নিখোঁজ হওয়ার কারণ এবং মাঝের সময়ের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

তবে আপাতত সব প্রশ্নকে ছাপিয়ে পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় খবর একটাই-অনন্ত ফিরে এসেছে, সুস্থ আছে।

একটি পরিবারের দীর্ঘ উৎকণ্ঠার গল্প আপাতত স্বস্তিতে থেমেছে। কিন্তু রক্তমাখা পোশাক থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত অনন্তর এই অদ্ভুত যাত্রার আসল রহস্য জানতে এখন সবার চোখ পুলিশের তদন্তের দিকে।

মন্তব্য (০)





image

পাবনা শহরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন পরিষ্কার অভিযান শুরু

পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর এলাকার বি...

image

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বগুড়ায় পূজা উদযাপন পরিষদের প্রস্তুতি স...

বগুড়া প্রতিনিধি : আগামী ৪ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার শ্রীকৃষ্ণের জ...

image

দিনাজপুরে যৌথ অভিযানে সাড়ে ৩৮ কোটি টাকা মূল্যের সাপের বিষ...

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকায় অভিযানে চা...

image

পাবনায় অস্ত্র কেনাবেচার সময় হাতেনাতে অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক

পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদীতে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাবেচা...

image

ঘোড়াঘাটে ট্রাক চাপায় স্ত্রী ও সন্তানের মর্মান্তিক মৃত্যু

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক...

  • company_logo