• সমগ্র বাংলা

ভুট্টা ক্ষেতের বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি, পিতা-সৎভাই হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরো : দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে বাবা ও সৎভাইকে হত্যার আলোচিত মামলার প্রধান দুই আসামিকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। গ্রেফতাররা হলেন প্রধান আসামি মো. সাদেকুল ইসলাম (৩০) ও তার ছোট ভাই মো. সাকিব (১৯)।গত সোমবার (২৯ জুন) পৃথক অভিযানে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানা এলাকায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার (৩০জুন) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব-১৩ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই দুই আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৩-এর দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র‌্যাব-৭-এর চট্টগ্রাম সদর কোম্পানির যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শহিদুল হক দুলুর প্রথম স্ত্রীর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিল এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর দুই ছেলে সাদেকুল ইসলাম ও সাকিব ইসলাম। দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল।

গত ১৩ মে সকালে বাড়ির পাশের জমিতে ভুট্টা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে শহিদুল হক দুলুর সঙ্গে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছেলে সাদেকুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।একপর্যায়ে সাদেকুল বাড়ি থেকে বল্লম ও ছুরি এনে বাবার বুকে বল্লম দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই শহিদুল হক দুলুর মৃত্যু হয়।

এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে সৎভাই কাবিলকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে সৈয়দপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রীর ছেলে হাবিবুর রহমান (হাবিল) বাদী হয়ে একই দিন চিরিরবন্দর থানায় সৎভাই, সৎমা ও তাদের সহযোগীদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

র‌্যাব জানায়, মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মহানগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের রেলবিট এলাকায় হারুন মিয়ার একটি রিকশা গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সাদেকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে একই দিন রাত ৯টা ১০ মিনিটে ইপিজেড থানাধীন হোটেল ব্লু সোম ইন্টারন্যাশনালের সামনে পৃথক আরেকটি অভিযানে মামলার দ্বিতীয় আসামি সাকিবকে আটক করা হয়।

রংপুর র‌্যাব-১৩-এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, "চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের গ্রেফতারে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত ছিল। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামে যৌথ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "এ মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধ দমনে র‌্যাবের নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।"

গ্রেফতার হওয়া দুই আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

মন্তব্য (০)





  • company_logo