• সমগ্র বাংলা

কালীগঞ্জের আলোচিত সাইফুল হত্যা: ২২ দিন পর রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

গাজীপুর প্রতিনিধি : গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের আলোচিত সাইফুল ইসলাম (৪৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে দেয়া এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়।

নিহত  সাইফুল ইসলাম কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের আলফাজ উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তর এলাকার বেড়িবাঁধ সড়কে জনৈক করিমের বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১ জুন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা সাইফুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে এবং মুখমণ্ডল ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে তার মুখ বিকৃত করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় ৩ জুন মামলা ( নং-০২) পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মামলার প্রাথমিক তদন্ত করেন কালীগঞ্জ থানার এসআই মো. ইব্রাহীম শেখ। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপার, গাজীপুর মামলাটির রহস্য উদঘাটনের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার ডিবির এসআই মো. আবুল হাসানের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির একটি বিশেষ টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, স্থানীয় সোর্সের তথ্য এবং বিভিন্ন সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযানে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. রেজাউল করিম (৫০), মো. নাঈম মিয়া (২৫) এবং মো. আবু তাহেরকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আবু তাহের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, নিহত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে রেজাউল করিমের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। বিশেষ করে মাদক-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে একাধিকবার ঝগড়া-বিবাদ হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে, রেজাউল করিম ও আবু তাহের এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ব বিরোধের জের ধরে রেজাউল, নাঈম ও আবু তাহের পরিকল্পিতভাবে সাইফুল ইসলামকে নদীর তীরবর্তী একটি কলাবাগান এলাকায় নিয়ে যান। সেখানে ২ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে কালীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বাজার সংলগ্ন উত্তরসোম এলাকার বেড়িবাঁধের সড়কে ফেলে রাখা হয়।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য (০)





image

বগুড়ায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ভিপি শাহীনসহ ৪ নেতা গ্রে...

১

বগুড়া প্রতিনিধি : বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র ...

image

অভিযানের পরও থামছে না ড্রেজারে মাটি কাটা, ঝুঁকিতে হেমায়েত...

২

‎পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের...

image

বিশ্ব হার্ট দিবস: বগুড়ায় এনসিডি কর্ণারে ওষুধ সংকটে হৃদরোগ...

৩

বগুড়া প্রতিনিধি : একটি হৃদ্‌স্পন্দন থেমে যাওয়া মান...

image

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ এর বিল ৫০৬ কোটি টাকা!

৪

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরায় মাত্র ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক ...

image

ফরিদপুরে ‘লটারি নয়, ভর্তি পরীক্ষা’ দাবিতে অভিভাবকদের মানব...

৫

ফরিদপুর প্রতিনিধি : প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের সরকারি ...

  • company_logo