• আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বদলে গেল মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণ, কীভাবে?

  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুধু একটি সামরিক প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। লেবাননের বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলার জবাবে চালানো এই অভিযান তেল আবিব, ওয়াশিংটন এবং পুরো পশ্চিম এশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ৪০ দিনের সংঘাতের পর ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মহল ইরানের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হয়ে গেছে—এমন ধারণা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছিল। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেখিয়ে দিয়েছে, দেশটির সামরিক অবকাঠামো এখনো সক্রিয় এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম। খবর মেহের নিউজ এজেন্সির। 

তাদের মতে, এ হামলার মাধ্যমে তেহরান প্রমাণ করেছে যে সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ইরানের প্রতিক্রিয়া জানানোর সক্ষমতা অটুট রয়েছে। ইসরাইলের অন্যতম লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের মাধ্যমে ইরানের সামরিক শক্তি ক্ষয় করা এবং সরাসরি জবাব দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলা সেই হিসাবকে ভুল প্রমাণ করল।

এদিকে, হামলাটি লেবাননভিত্তিক সংগঠন হিজবুল্লাহর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে। বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলাকে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক ঘাঁটির ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইরানের প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিয়েছে যে, লেবাননের নিরাপত্তা এবং হিজবুল্লাহর অবস্থান এখনো তেহরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এ হামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একটি নতুন প্রতিরোধ বা ‘ডিটারেন্স’ সমীকরণের সৃষ্টি। দীর্ঘদিন ধরে ইসরাইল লেবানন, সিরিয়া, ইরাক কিংবা ইরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সামরিক অভিযান পরিচালনা করলেও সরাসরি বড় ধরনের মূল্য দিতে হয়নি। তবে এখন বৈরুতের ওপর হামলার জবাবে ইসরাইলের অভ্যন্তরে আঘাত হানার সক্ষমতা দেখিয়েছে ইরান।

এর ফলে ভবিষ্যতে লেবাননের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ কেবল সীমান্ত সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে না; বরং তা ইরানের সঙ্গে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। এতে তেল আবিবের নিরাপত্তা ও সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের খরচ এবং ঝুঁকি দুটোই বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও একটি বার্তা বহন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে চাপ প্রয়োগের কৌশল অনুসরণ করছিল। তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, দেশটি এখনো সামরিক সক্ষমতাকে কূটনৈতিক সমীকরণের একটি কার্যকর উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ হামলা আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—যুদ্ধের পর দ্রুত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ক্ষমতা। আধুনিক সংঘাতে এটি শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ইরান অল্প সময়ের মধ্যে তার ক্ষেপণাস্ত্র ও কমান্ড কাঠামো সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা প্রতিপক্ষের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া এ ঘটনা ইসরাইলের সামরিক কৌশলের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। গাজায় হামাস বা লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যে কৌশল প্রয়োগ করা হয়েছে, একই পদ্ধতি ইরানের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ ইরান একটি বৃহৎ আঞ্চলিক শক্তি, যার রয়েছে বিস্তৃত ভৌগোলিক গভীরতা এবং বৈচিত্র্যময় সামরিক সক্ষমতা। 

মন্তব্য (০)





image

ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ভোটার ব্লক হতে চলেছে জেন জি

নিউজ ডেস্ক : ভারতের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠ...

image

‎বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের উগান্ডাসহ পাঁচ দেশে পাঠানোর প...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া বা...

image

‎পারস্য উপসাগর ছাপিয়ে নতুন নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে ইরান যুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইরানে সামরিক হামলা স্থ...

image

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন তরুণদের আন্দোলনে যেভাবে বদলে দিয়েছ...

নিউজ ডেস্ক : দিল্লির যন্তর মন্তরে দেশটির তরুণ প্রজন্ম বা জেন...

image

সৌদিতে ১৫ হাজার অভিবাসী গ্রেফতার

নিউজ ডেস্ক : সৌদি আরবে গত এক সপ্তাহে আইন অমান্য করার অভিযোগে...

  • company_logo