কক্সবাজার প্রতিনিধি : বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরকসদৃশ বস্তু উদ্ধার করা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
একই দিনে কক্সবাজার বিজিবির আওতাধীন ঘুমধুম সীমান্তে দাহ্য রাসায়নিকও আটক করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন ১১ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির শনিবার ১১ এপ্রিল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছায়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
নাইক্ষ্যংছড়ির টারগোপাড়া বিওপির একটি টহল দল ৪–৫ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ব্যাগসহ চলাচল করতে দেখতে পায় ।
বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করলে তারা ব্যাগ ফেলে পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরে ফেলে যাওয়া ব্যাগ তল্লাশি করে ৫ টি সম্ভাব্য অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন, ৫ টি আইইডি, একটি মেটাল ডিটেক্টর, একটি সোলার প্যানেল, শুকনা খাবার, মোবাইল ফোন, পাওয়ার ব্যাংক ও সিভিল পোশাক উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো বালুর বস্তা দিয়ে সুরক্ষিত করে লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার জন্য ওই এলাকায় সাময়িকভাবে চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল টিম মোতায়েনের জন্য সমন্বয় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
একই দিন দুপুরে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন ৩৪ বিজিবি"র বাইশফাঁড়ী বিওপির একটি টহলদল সীমান্ত পিলার ৩৭/২-এস সংলগ্ন আমবাগান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করে বিজিবি। এসবের মধ্যে রয়েছে ৩ কেজি দাহ্য পাউডার, ৩ কেজি মেপোক্স, ৩ রোল নাইলন কাপড় ও ৩ লিটার দাহ্য রাসায়নিক তরল।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক পদার্থ পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সীমান্তে নাশকতা ও চোরাচালান ঠেকাতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বলেও জানায় বিজিবি।
তিনি জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিদ্যমান বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) ও অ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন স্থাপনের ঝুঁকি এবং দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ চোরাচালানের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিজিবি গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার, নিয়মিত টহল বৃদ্ধি এবং সমন্বিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রেখেছে।
অপর দিকে ১১ এপ্রিল শনিবার আনুমানিক ভোররাত ১ টা হতে সকাল ৬ টা পর্যন্ত নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর বিশেষ টহলদল সোনাইছড়ি নামক স্থান হতে অবৈধভাবে মজুদকৃত ৩৯৫ লিটার জ্বালানি তেল (অকটেন) জব্দ করা হয়। একই সময়ে টাইম বাজার এলাকা হতে ২০ বস্তা ইউরিয়া সার এবং ৪ বস্তা টিএসপি সার জব্দ করা হয়। এছাড়া ১১ এপ্রিল শনিবার বেলা ১ টার সময় রামু ব্যাটালিয়ন ৩০ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ
এর দিকনির্দেশনায় সহকারী পরিচালক মোঃ কবির হোসেন এর নেতৃত্বে বিজিবি "র একটি বিশেষ টহলদল খুনিয়াপালং ইউনিয়নের তুলাবাগান এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসময় এক ব্যক্তি অভিনব কায়দায় মাথায় করে বস্তা নিয়ে আসার সময় দূরথেকে বিজিবি’র টহলদলের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে বস্তাটি রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি’র টহলদল তল্লাশী করে বস্তার ভিতরে বিশেষভাবে লুকায়িত অবস্থায় ২ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বলে জানান লেঃ কর্নেল কাজী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ।
মন্তব্য (০)