রংপুর ব্যুরো : পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি বলেছেন, দেশের উন্নয়নে বর্তমান সরকার কথার চেয়ে কাজে বেশি বিশ্বাস করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। খাল পুনঃখননসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এরই বাস্তব প্রমাণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মর্ণেয়া ইউনিয়নের রমাকান্ত খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পাশাপাশি খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে সরকার ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী, খাল-বিল ও জলাশয় খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু করেছে।এ উপলক্ষে আলালচর চৌধুরীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
এর ফলে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদী-খালগুলো আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। আমরা আশা করছি, অচিরেই উত্তরাঞ্চলকে আবারও দেশের শস্যভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।”
তিনি আরও বলেন, দেশে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। “আগে যেখানে ২০ ফুট গভীরতায় টিউবওয়েলে পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৪০ ফুটেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এই সংকট মোকাবেলায় খাল খনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে,” বলেন তিনি।
রমাকান্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই খাল খননের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বিনষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে। পাশাপাশি কয়েক হাজার কৃষক সেচ সুবিধা পাবেন। এতে করে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকদের জীবনমান উন্নত হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “খাল খননের পাশাপাশি খালের দু’পাশে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। আমাদের উত্তরাঞ্চলে যেখানে মাত্র ৭ শতাংশ বনভূমি রয়েছে, সেখানে দক্ষিণাঞ্চলে রয়েছে ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ। এই বৈষম্য দূর করতে প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, খনন করা খালগুলো শুধু সেচ সুবিধাই দেবে না, বরং এতে মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ বিভিন্ন আয়ের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং মানুষ স্বনির্ভর হয়ে উঠবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, খাল খনন কাজে স্থানীয় শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। মোট কাজের ৩৫ শতাংশ শ্রমিকদের মাধ্যমে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ মেশিনের সাহায্যে সম্পন্ন করা হবে। এতে স্থানীয় কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের অন্যান্য প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ১৩২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও কৃষকদের কল্যাণে এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ-উন-নবী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান, জেলা পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন এবং রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার রমাকান্ত খালের ৫ দশমিক ৪০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে ১৫০ হেক্টর জমিতে ভূ-উপরিস্থ পানির মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকায় মৎস্য ও জলজ সম্পদের উৎপাদন বাড়বে। পাশাপাশি এই প্রকল্পে ১ হাজার ৩৪৪ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
২১ লাখ ৮ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে শুরু হওয়া এই পুনঃখনন কাজ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। স্থানীয়দের আশা,এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশ-সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মন্তব্য (০)