রংপুর ব্যুরো : রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির কোনো লেজ পর্যন্ত রাখা হবে না।অতীতের অনিয়ম ও স্থবিরতার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় শেষ-এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দীর্ঘ এক দশকের অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন পথে যাত্রা শুরু করেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি)। দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্থবিরতার অধ্যায় বন্ধ করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর বেগম বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত দশতলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল ভবনের নির্মাণকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।এ উপলক্ষে উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ভবনটি পরিদর্শন করেন।প্রায় এক দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকা এই ভবনটি পুনরায় চালু হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরেছে।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন,এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতির কোনো লেজ পর্যন্ত রাখা হবে না।অতীতের অনিয়ম ও স্থবিরতার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় শেষ-এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।
তিনি জানান, দশতলা বিশিষ্ট এই ছাত্রী হলটির পাঁচতলার নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে এটি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য চালু করা হবে।এতে করে দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট অনেকাংশে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ছাত্রী হলটির নামকরণ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন,আমরা সিন্ডিকেটে ‘বেগম জিয়া ছাত্রী হল’ নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছি। তবে কাগজে-কলমে আগে শেখ হাসিনার নামে নামকরণের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের প্রমাণ আমি পাইনি।আশা করছি, আগামী সিন্ডিকেট সভায় নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষ উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে তিনি জানান, বেরোবির একটি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ৯৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সাবেক প্রশাসন ওই প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ১৭৮ কোটি টাকা করার উদ্যোগ নেয়। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির কাজ বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন-এ মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
উপাচার্য বলেন,আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনগত জটিলতা কাটিয়ে দশতলা ছাত্রী হল এবং দশতলা বিশিষ্ট ওয়াজেদ রিসার্চ ভবনের কাজ পুনরায় শুরুর আবেদন করি এবং অনুমোদন পাই।”
তিনি আরও জানান, যারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের কেউ কেউ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে।
“যেহেতু তাদের কাছে অর্থ রয়েছে, অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করাটাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য,”-বলেন তিনি।
এদিন উপাচার্য ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ভবনও পরিদর্শন করেন।সেখানে গবেষণা কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান রোকনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পর্যালোচনা করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ভবনের কাজও বৃহস্পতিবার থেকেই পুরোদমে শুরু হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও আইনানুগ কাঠামোর মধ্যেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অতীতের দুর্নীতি ও অনিয়ম থেকে শিক্ষা নিয়ে বেরোবিকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলাই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।
দীর্ঘ দশ বছর পর গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট মহলে স্বস্তি ফিরেছে। অনেকেই মনে করছেন, এই উদ্যোগ বেরোবির অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আনবে এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়াজেদ ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চ এর গবেষণা কর্মকর্তা ড. রোকনুজ্জামান রোকনসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
মন্তব্য (০)