নিউজ ডেস্কঃ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়নি। এমন কিছু ঘটেনি, যাতে বলা যায় ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। আজ (সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নির্বাচন বয়কট ও প্রতিহতের ঘোষণা দিয়েছিল। কাজেই তাদের বাদ দিয়ে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল।’
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েছেন ২০৯ জন। এবার সংসদ সদস্যদের গড় বয়স ৫৯, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম গড় বয়স।
টিআইবি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ একদিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নেতিবাচক অবস্থান নিলেও, অন্যদিকে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের একটি অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। ফলে দলটির উভয় ভূমিকার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে এবং দলটির কার্যক্রম ও ছাত্র সংগঠন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে একই সময়ে আওয়ামী লীগ জুলাই অভ্যুথ্যান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে ঘোষণা করে নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে।
টিআইবি আরও জানায়, নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করে প্রতিহত করার ঘোষণা দিলেও মাঠপর্যায়ে দলটির কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। যদিও দলের একটি অংশ ভোট বর্জন করেছে- যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত জোট এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা এ ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরও সাড়া দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে তারা সরাসরি অংশগ্রহণকারী অন্য দলগুলোতে যোগদান বা তাদের প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
টিআইবি প্রতিবেদনে জানায়, জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক ঘোষণার অবস্থানে আওয়ামী লীগের অবিচল অবস্থান ছিল। নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগ কর্তৃক অবৈধ ও প্রতিহত করার ঘোষণা ও তৎপরতা এবং নির্বাচন ও নির্বাচনি পরিবেশে আওয়ামী লীগের নেতিবাচক ভূমিকায় সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে।
সংস্থাটি বলছে, মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের ভোট টানার জন্য নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের অনেকেই, বিশেষ করে বিএনপি ও জামায়াত জোট এবং জাতীয় পার্টিসহ দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও সাড়া দিয়েছেন এবং অনেক ক্ষেত্রে নির্বাচনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী কোনো কোনো দলে যোগদান ও প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।
মন্তব্য (০)