ছবিঃ সিএনআই
বগুড়া প্রতিনিধি : বগুড়ায় খরস্রোতা যমুনা যেন রাক্ষুসী রুপে গিলে ফেলতে শুরু করেছে বিঘার পর বিঘা জমি। নদীভাঙনের যে দৃশ্যে এখন সবকিছু হারানোর ভয়ে আতঙ্কে দিন পার করছেন নদীপাড়ের হাজারো মানুষ। উজানের ঢল আর ২দিনের ব্যবধানে প্রায় ১০০ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধিতে বুধবার সকাল থেকে জেলার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নের ৪ কিলোমিটার এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। ইতিমধ্যেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে ভাঙন ঠেকাতে বিভিন্ন সময়ে নদীতে ফেলা কোটি কোটি টাকার জিও ব্যাগও।
এদিকে ভাঙনের আশঙ্কায় বুধবার থেকে সহরাবাড়ি ঘাটের অন্তত ৯টি দোকান ও পাঁচটি বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। গত ছয় মাসের ভাঙনে ইতিমধ্যে এই দুই এলাকার প্রায় ৫০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতে উপজেলা যুবলীগের ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করায় আকষ্মিক এই ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও এই অঞ্চলে দীর্ঘ বছর নদীর তীর রক্ষায় নেয়া হয়নি কোন দৃশ্যমান সরকারি উদ্যোগও।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ও নুরুল হুদা জানান, ভাঙ্গন আতঙ্কে তারা প্রতিবছর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বৈষম্যে গেলো সতেরো বছর এই এলাকায় ন্যূনতম কোন কাজই হয়নি। মাসখানেক আগে থেকেই ভাঙ্গন শুরু হলে তারা চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন। বুধবার থেকে ভাঙন তীব্র হলে ইতিমধ্যে কয়েক বিঘা ফসলী জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। বছরের পর বছর এই এলাকায় স্থানীয় যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেন ও তার লোকজন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খেসারত দিতে হচ্ছে তাদের।
ভাঙ্গন প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আপেল মাহমুদ জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক বৈষম্যের বলি হয়েছে বগুড়া। ভাঙ্গনে বছরের পর বছর শত শত বিঘা জমি নদী গর্ভে চলে গেলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি স্থায়ী কোন উদ্যোগ। সহরাবাড়ি খেয়া ঘাটে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্মৃতি বিজড়িত একটি বটগাছ ছিল যা এবারের ভাঙ্গনে যমুনার পেটে চলে গিয়েছে যে কষ্ট মেনে নেয়া যায়না। এই গাছের নিচে বিশ্রাম নিতো নৌকা পারাপার করা হাজারো যাত্রী। তিনি বলেন বালুখেকোরা লুটপাট করে এই এলাকার ধ্বংস করে দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়নি কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা। তিনি অবিলম্বে ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়া নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল হক জানান, ভাঙ্গন ঠেকাতে ২০১৮ সালে দুইবার প্রকল্প প্রস্তাবনা দিলেও তা অনুমোদন হয়নি। মাসখানেক ধরে নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙ্গন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে তারা অস্থায়ী উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাঙ্গন ঠেকাতে নদীতে ফেলা হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার জিও ব্যাগ এবং দেড় হাজার জিও টিউব। এছাড়াও সারিয়াকান্দি ও ধুনটে যমুনা নদীর ভাঙন প্রবণ ৮ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ ও ২০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ সংস্কারে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প শ্রীঘ্রই হাতে নেওয়া হবে।
পাবনা প্রতিনিধিঃ পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় একটি দোকানে চুরি করত...
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার গাবতলা ও সতের র...
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের পঞ্চগ্রামে উৎসবমুখর পরিবেশ...
নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর রাণীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ...
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা- বরিশাল মহ...

মন্তব্য (০)