দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ বৈষম্য বিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলনে দিনাজপুরে কলেজ ছাত্র রবিউল ইসলাম রাহুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় সদর আসনের সাবেক এমপি এবং ভেঙ্গে দেওয়া জাতীয় সংসদের তৎকালিন হুইপ ইকবালুর রহিমের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল রবিবার রাতে দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছেন নিহত রাহুলের বড় ভাই ফরিদুল ইসলাম। মামলায় ৩১ জন নেতার নামসহ আরো ৪ শতাধিক অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন এক দফায় পরিনত হলে সদর আসনের সাবেক এমপি এবং ভেঙ্গে দেওয়া জাতীয় সংসদের তৎকালীন হুইপ ইকবালুর রহিমের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ উসকানি প্ররোচনায় এবং তার নির্দেশে আওয়ামীলীগের সন্ত্রাসীরা হাতে ক্ষতিকারক গ্যাস ও ধারালো দেশী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর অতর্কিত হামলা এবং এলোপাথারী ভাবে গুলি বর্ষন করেছিল । এসময় অন্যান্য অনেকের সাথে রবিউল ইসলাম রাহুলের দুই পাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্হায় গত ৯ আগষ্ট সন্ধ্যায় প্রান হারায় রাহুল।
কোতয়ালী থানার ইনচার্জ ফরিদ হোসেন জানান, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সদর আসনের সাবেক এমপি ও ভেঙ্গে দেওয়া জাতীয় সংসদের তৎকালিন হুইপ (১) ইকবালুর রহিমকে। এছাড়াও যুব লীগের জেলা কমিটির সভাপতি (২) রাশেদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, (৪) আওয়ামী লীগের শহর কমিটির সহভাপতি শাহ আলম, (৫) যুবলীগের শহর কমিটির সভাপতি আশরাফু আলম রমজান (৬) আওয়ামী লীগের কোতয়ালী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক রঞ্জন বসাক, যুবলীগ নেতা (৭) মোঃ মিথুন, (৮) মোঃ সুইট, (৯) ওবাইদুর রহমান, (১০) ৩ নম্বর ফাজিলপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অভিজিৎ বসাক, (১১) আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আলতাফুজ্জামান মিতা, (১২) হারুনর রশিদ রায়হান, (১৩) ওয়াসিম নূর তুষার, (১৪) ৪ নম্বর শেখপুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের কোতয়ালী কমিটির সাধারন সম্পাদক মমিনুল ইসলাম, (১৫) সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের কোতয়ালী কমিটির সভাপতি ইমদাদ সরকার, (১৬) ৫ নম্বর শশরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোকছেদ আলী রানা, (১৭) ছাত্রলীগ নেতা মোঃ মিথুন, (১৮) নূর মোহামম্মাদ, (১৯) জাকির হোসেন, (২০) সাদেকুল ইসলাম, (২১) রাশেদুল ইসলাম, (২২) রুবেল, (২৩) দিনাজপুরের শিক্ষাবোর্ডে কর্মকর্তা কর্মচারি ইউনিয়নের সভাপতি মাসুদ আলম, (২৪) রথীন্দ্র নাথ বসাক সুটু, (২৫) ছাত্র লীগের উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক শামীম রেজা (২৬) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল মালেক সরকার, (২৭) রফিকুল ইসলাম, (২৮) আওয়ামী লীগের ফাজিলপুর ইউনিয়ন কমিটির সাবেক সভাপতি ইউসুফ আলী তালুকদার, (২৯) সাবেক সাধারণ সম্পাদক উত্তম বসাক (৩০) মামুনুর রশিদ এবং (৩১) অমিত বসাক ভোলারকে আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরো ৪ শত জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলা নম্বর ২৭/৫৩০। ধারাঃ-১৪৩/১৪৭ ৩২৪/৩২৫/৩২৬। ৩০৭/৩০২/১০৯/ ৩৪।
মামলা তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে ইন্সপেক্টর এ.এফ.এম. মনিরুজ্জামান মণ্ডলকে।
রবিউল ইসলাম রাহুল হত্যাকান্ডের ঘটনায় এর আগে ১৯ আগষ্ট প্রথমে আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন রহান হোসেন নামে আরেক প্রার্থী। মামলা নম্বর ১৮। ওই মামলায় সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম এবং তার সহোদর বড় ভাই সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগের অপসারিত বিচারপতি এনায়েতুর রহিমসহ ২০ জন নেতার নামসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরো ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে একই হত্যাকান্ডের পৃথক দুইটি মামলা রেকর্ড করা হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
মন্তব্য (০)